kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

নির্বাচনে সহিংসতা প্রশ্নে সিটিটিসি প্রধান

শুধু ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময় যাতে কোনো সহিংসতা না হয় সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহ সচেষ্ট রয়েছে। তবে কেউ ফৌজদারি অপরাধে লিপ্ত না হলে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না হলে কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কথা দিচ্ছি, শুধু ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলেই আমরা আইন প্রয়োগে বাধ্য হব।’ গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট পর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘উগ্রবাদ-সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। জঙ্গিরা গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে ঘৃণা করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় তাদের হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে আমরা এ ব্যাপারেও প্রস্তুত আছি।’

নয়াপল্টনে বুধবার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সহিংসতা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মিছিল-সমাবেশ করে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন বা জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। যেকোনো অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার সক্ষমতা ডিএমপির ছিল। তবে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ না করে সবাইকে আইন মানতে বলে। জবাবে হেলমেটসহ লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হলেও বিনা কারণে কাউকে আসামি করা হয়নি বলে তিনি জানান। সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে কাজ করছি। নির্বাচনকেন্দ্রিক যেকোনো সহিংস ঘটনা প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্ষম। তবে, সব কিছুতে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়, সেটি হলে পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে। সহিংসতা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ বাড়াতে হবে।’

সংলাপে আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফারহানা বেগম, ঢাকা আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মো. আলমগীর রহমান, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আবু রইস, গবেষক ড. এস এম মোর্শেদ, বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ, তরুণ উদ্যোক্তা মাহবুব মজুমদার, গীতিকার কবির বকুল প্রমুখ। এ ছাড়া সংলাপে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মাদরাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সংলাপে অন্য বক্তারা বলেন, উগ্রবাদ ও সহিংসতা সৃষ্টির জন্য নিজের বিশ্বাস ও চিন্তাকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া, পরিবার থেকে বিছিন্নতাবোধ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার অনেকাংশে দায়ী। সংলাপের সভাপতি ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশে বরাবরই তরুণ সমাজকে ব্যবহার করা হচ্ছে সহিংস উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে আমাদের তরুণ-কিশোরদের সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না করা হয় তার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মন্তব্য