kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

সুরমূর্ছনায় ঢাকা মাতালেন শঙ্কর-এহসান-লয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুরমূর্ছনায় ঢাকা মাতালেন শঙ্কর-এহসান-লয়

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় গতকাল দিওয়ালি কনসার্টে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

অগ্রহায়ণের দ্বিতীয় সন্ধ্যাটা অনেকের কাছেই দীর্ঘ মনে হচ্ছিল গতকাল শুক্রবার। ২৩ বছর ধরে ভারত মাতানো শঙ্কর-এহসান-লয় ত্রয়ীর গান শুনতে রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। টিকিট সংগ্রহ করা দর্শকরা নিজের আসন আগেভাগে দখলে নিতে বিকেলেই পৌঁছে যায় গন্তব্যে। তাই সবার চোখ ছিল ঘড়ির কাঁটায়। কখন বাজবে রাত ৮টা, দর্শন মিলবে উপমহাদেশের অন্যতম সেরা এই শিল্পী ত্রয়ীর। শঙ্কর মহাদেবনের সুরের মূর্ছনায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার তিক্ততা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে দর্শক। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ‘দিল চাহতা হ্যায়’ বলে টান দিতেই করতালিতে প্রিয় শিল্পীকে অভিবাদন জানায় ঢাকাবাসী। একে একে ১৫টি গান গেয়ে ভক্তদের ভালোবাসার জবাব দেন শঙ্কর। মধ্যরাতে কনসার্ট শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর নিয়ে বাড়ি ফিরেছে দর্শকরা। ঢাকায় বসবাসরত ভারতীয় ও বাংলাদেশের নাগরিকদের সম্মানে আয়োজিত ‘দিওয়ালি কনসার্ট-২০১৮’-তে দর্শক মাতাতে ঢাকায় আসেন ভারতীয় এই তিন শিল্পী। বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজন করে কনসার্টটি। এতে সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করে দেশের বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বসুন্ধরা। এ ছাড়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, জেড এয়ারওয়েজ, লা মেরিডিয়ান ও ব্লুজ সহায়তা করেছে কনসার্টটি আয়োজনে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। দিওয়ালি কনসার্টে পৃষ্ঠপোষকতা এবং সার্বিক সহায়তার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনার বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘তিন ভারতীয় শিল্পী এনে এবারের দিওয়ালি কনসার্টটি ভিন্নভাবে আয়োজন করেছি। আর আমাদের এই আয়োজনে ভেন্যু প্রদানসহ সার্বিকভাবে  সহায়তার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের প্রতি।’

ভারতীয় হাইকমিশনের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো কোনো পাবলিক কনসার্ট উপভোগ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে ৩০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক সংস্কৃতি কেন্দ্র করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তাই ভারতীয় হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে অবদান রাখতে পেরে আনন্দিত বসুন্ধরা গ্রুপ।’

সংস্কৃতি কেন্দ্রের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘৩০০ ফুট সড়কের পাশে আমাদের জমি রয়েছে। আমরা ৩০ হাজার মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কালচারাল সেন্টার করতে পারি। সংস্কৃতিমন্ত্রী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বাড়াতে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু বলেন, ‘সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে আমরা ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করছি। ধর্মীয় সহিষ্ণুতার বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কনসার্টে সহায়তা করতে পেরে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনও আনন্দিত।’

প্রথমবারের মতো পাবলিক কোনো কনসার্টে গান পরিবেশন করেন শঙ্কর মহাদেবন, এহসান নূরানি ও লয় মেন্দোনসা। বলিউডের এই তিন সংগীত পুরোধা গান পরিবেশন করতে পেরে ঢাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। শঙ্কর-এহসান-লয়ের গান শুনতে পাঁচ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিল কনসার্টটিতে।

শঙ্কর মহাদেবন বলেন, ‘ঢাকায় দর্শকদের অভিবাদন পেয়ে আমি আপ্লুত। ২৩ বছরে পা দিয়েছে আমাদের দল। তবে এই প্রথম আমি ঢাকায় কোনো পাবলিক প্রগ্রামে গান করছি।’

কনসার্টে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা