kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

আক্কেলপুরে কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়

নিয়াজ মোরশেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)   

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাবদাহ ও খরার কারণে আক্কেলপুর উপজেলার মাঠগুলোতে শত শত বিঘা জমির ধান ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। দু-তিন মাস ধরে কোনো বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের জমিগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কৃষকদের এমন সংকটের দিনে সুযোগ বুঝে কিছু এলাকায় গভীর নলকূপ চালু করে কৃষকদের কাছ থেকে টাকা খোয়াচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। একবার জমিতে সেচ দিয়েই বিঘাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করে নিচ্ছেন গভীর নলকূপ মালিকরা। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কোনো তৎপরতা না থাকায় নলকূপ মালিকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শেষ সময়ে কিছু কৃষক ফিতা পাইপের মাধ্যমে চড়া দামে পানি কিনে ফসল রক্ষার চেষ্টা করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার হাসতাবসন্তপুর বড়বিলা, শ্রীরামপুর, শ্রীকৃষ্টপুর পদ্মবিলা, রোয়াইর, কানুপুর, হালির মোড়, ভালকীর ব্রিজ, নলডাঙ্গা, শান্তা, কাঁঠালবাড়ি, রামশালা গ্রামের মাঠসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আমনের ধান পুরোপুরি পেকে গেছে। আর কয়েক দিন পরই ধান কাটা শুরু হবে। তাই শেষ সময়ে ফসল বাঁচাতে গভীর নলকূপ থেকে চড়া দামে পানি কিনছে কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১০ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৮ হাজার ৫৮৮ মেট্রিক টন ধান।

উপজেলার ২০-২৫ জন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাদের ধান রোপণে। কিন্তু এসব ধান পানির অভাবে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। আপৎকালীন এ দুর্যোগ মোকাবেলায় পুকুর, ডোবা, জলাশয় বা গভীর নলকূপ চালু করে সেচ দিতে কৃষি বিভাগের কোনো লোকজন সহযোগিতা করেনি। এ ক্ষেত্রে সুযোগ নিয়েছেন গভীর নলকূপের মালিকরা। তাঁরা তাদের বিপদের সুযোগ নিয়ে বিঘাপ্রতি সেচ দিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। ধান কাটার আগে টাকা পরিশোধ না করলে নলকূপের মালিকরা জমি থেকে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যেতে দেবে না বলেও হুমকি দিচ্ছেন।

আক্কেলপুর পৌর এলাকার পশ্চিম হাসতাবসন্তপুর গ্রামের কৃষক গোবরা মণ্ডল বলেন, ‘এবার আমন ধান রোপণের শুরু থেকেই বৃষ্টির সংকট ছিল। জমির আগাছা পরিষ্কারের সময় বৃষ্টি না থাকায় চড়া মূল্যে শ্রমিক দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করা হয়েছিল। এখন এই সংকটময় সময়ে গভীর নলকূপ থেকে চড়া মূল্যে পানি কিনতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দিত, তাহলে আমাদের মতো কৃষকের বেশি লোকসান গুনতে হতো না।’ কৃষক আমিনুর রশিদ ইকু বলেন, ‘আমার আট বিঘা জমিতে বৃষ্টির পানির অভাবে অর্ধেক ধান পুড়ে গেছে। গভীর নলকূপের মালিকের কাছে দীর্ঘদিন ধরনা ধরে একটু পানি পেয়েছি। কিন্তু নলকূপ মালিক একবার সেচ দিয়েই বিঘাপ্রতি ৩০০ টাকা করে দাবি করছেন। টাকা না দিলে ধান ঘরে নিয়ে যেতে দেবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জালাল হোসেন নামের এক গভীর নলকূপের মালিক বলেন, ‘আমি কোনো কৃষকের কাছ থেকে বেশি টাকা নিইনি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা