kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

গাজীপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে বৃদ্ধ খুন

মাথাবিহীন যুবকসহ তিন লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গাজীপুরে ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। তিনি এলাকায় চা বিক্রি করতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সালনার জোলারপাড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত তাঁর ছোট ভাই রশিদ শিকদারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় টঙ্গীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরে মহাসড়কের পাশ থেকে মাথাবিহীন অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তা ছাড়া মহানগরীর ভোগড়া এলাকা থেকে যুবক এবং কাপাসিয়া থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, জোলারপাড় বাজারে শহিদুল ইসলামের চায়ের দোকান আছে। সকালে শহিদুলের ছেলে সুজন আল মামুন দোকানে ছিল। ছোট ভাই রশিদ শিকদার দোকান থেকে চা-পান খেয়ে সকাল ১১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজার থেকে বাড়ির দূরত্ব পাঁচ-ছয় মিনিটের পথ। মাঝরাস্তায় আসতেই প্রতিবেশী আক্তার হোসেন, তাঁর দুই ছেলেসহ চার-পাঁচজন মিলে তাঁর চাচাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তিনি দৌড়ে বাড়ির উঠানে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নিতে বড় ভাই শহিদুল অটো আনতে বাজারে যান। অটো নিয়ে ফেরার পথে হামলাকারীরা শহিদুলকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। স্বজনরা দ্রুত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছেলে সুজন আল মামুন জানান, বাড়ির কাছের খাসজমিতে কয়েকটি গাছ রয়েছে। ওই সব গাছ ও জমি স্থানীয় রহিজ উদ্দিন ভোগ করতেন। গত বছর গাছগুলো তিনি মসজিদে দান করেন। মসজিদ কমিটি তাঁর চাচা রশিদকে গাছ কাটার শ্রমিক নিয়োগ করে। তিনি গাছ কাটতে গেলে আক্তার হোসেন ও তাঁর ছেলেরা বাধা দেয়। এ নিয়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আক্তার হোসেন বাদী হয়ে তাঁর বাবা-চাচাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এরই জেরে এই হামলা ও খুনের ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহতের শরীরে ১০-১২টি গভীর কোপ রয়েছে। তাঁর ছোট ভাইয়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরো তিন লাশ : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজেন্দ্রপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান এলাকায় মহাসড়কের পাশে মাথাবিহীন অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ পাওয়া গেছে, যার কয়েক গজ দূরেই মাথাটি পড়ে ছিল। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ গতকাল দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সকালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ১ নম্বর গেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে যুবকের মাথাবিহীন লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়। দেহ থেকে কয়েক গজ দূরেই মাথাটি পড়ে ছিল। পাশেই একটি হেলমেট, একটি নতুন কাপড়ের ব্যাগ ও কিছু কাগজপত্র পড়ে ছিল। এসব দেখে মনে হচ্ছে, যুবক মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাঁকে খুন করে মোটরসাইকেল, সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনসেট ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে থাকতে পারে। নিহত যুবকের পরনে জিন্সের প্যান্ট ও নেভি ব্লু শার্ট রয়েছে।

গাজীপুর মেট্রো পুলিশের সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর জানান, জায়গাটি গভীর গজারি বনে ঘেরা। দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যা করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে গেছে, নাকি অন্যত্র হত্যা করে লাশ এখানে ফেলে গেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মহানগরীর ভোগড়ার চৌধুরীবাড়ি এলাকা থেকে গতকাল সকালে মিজানুর রহমান (২৩) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই যুবক কুমিল্লার মুরাদনগরের দামগড় এলাকার মৃত নাজিম খানের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে চৌধুরীবাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।

নিহতের বড় ভাই মোফাজ্জল হোসেন জানান, গত রাতে সে একাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। সকালে সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে দেখেন ঘরে তাঁর লাশ ঝুলছে। পরে থানায় খবর দিলে দরজা ভেঙে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

অন্যদিকে বৃদ্ধার লাশটি উদ্ধার হয় গতকাল সকালে কাপাসিয়ার তরগাঁও গ্রামের একটি ডোবা থেকে। আনুমানিক ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধার পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন কাপাসিয়া থানার ওসি আবু বক্কর। তাঁর পরনে ফুলহাতা জ্যাকেট, গোলাপি কামিজ ও ওড়না রয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও ডান পায়ের দুটি আঙুল নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা