kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

হাজী দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

নানা প্রতিবাদে উত্তপ্ত, ক্লাস বর্জন ৬৭ শিক্ষকের

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাধিক আন্দোলনে উত্তপ্ত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। ঘটছে অপ্রীতিকর ঘটনাও। গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারকে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন সদ্য পদোন্নতি পাওয়া শিক্ষকরা। তাঁদের অভিযোগ, ট্রেজারারের কাছে বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাঁরা লাঞ্ছিত হয়েছেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় তিন শিক্ষক আহত হয়েছেন। প্রতিবাদে তাঁরা বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিতে নামেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাবিপ্রবি প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফাতিহা ফারহানা, কৃষ্ণ চন্দ্র রায়, হাফিজ আল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, ১১ অক্টোবর রিজেন্ট বোর্ডের সভায় তাঁদের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হলেও বর্ধিত বেতন দেওয়া হচ্ছে না ৫৭ শিক্ষককে। এর কারণ জানতে বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারের কক্ষে যান ৫৭ শিক্ষক। হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালকসহ কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিরও ঘটনা ঘটে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ছাত্রদের একটি গ্রুপ এসে কোষাধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ সময় কিছু ছাত্র প্রতিবাদকারী শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় গতকাল দুপুর ১টায় প্রশাসনের পক্ষে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. সফিউল আলম হাবিপ্রবির ভিআইপি কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিং করেছেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বুধবার ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারের কক্ষে ভয়ানক হৈচৈ হয়। দেশে ২০১৫ সালের ১ জুলাই সব শেষ বেতন স্কেল চালু হয়েছে। সেখানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ১৩(১) ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, প্রমোশন/আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে মূল বেতন ছাড়া অন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট পাবেন না। যে ৫৭ জন শিক্ষকের প্রমোশন হয়েছে তাঁদের বেতন নির্ধারণ হবে রিজেন্ট বোর্ডের তারিখ অর্থাৎ ১১-১০-২০১৮ ইং তারিখ হতে। কিন্তু তাঁরা সে নিয়ম না মেনে ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদারকে অবরুদ্ধ করেন।

ট্রেজারার প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র হাওলাদার বলেছেন, শিক্ষকরা বুধবার তাঁর কাছে এসে অযৌক্তিকভাবে চাপ প্রয়োগ করেন, সরকারি কাজে বাধা দেন এবং তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে সিনিয়র শিক্ষকরা এলে তাঁরা সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গেও অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করেন। একপর্যায়ে সিনিয়র শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্ররা এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁদের ওপর কে হামলা করেছে, তা তাঁর জানা নেই। ছাত্ররা কিভাবে সেখানে এসেছে, তাও তাঁর জানা নেই।

অপরদিকে হাবিপ্রবির মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এবং অতীত কিছু ঘটনার বিচারের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সাবেক উপাচার্য  প্রফেসর রুহুল আমিনকে দায়ী করেন।

এ ছাড়া হাবিপ্রবি প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা ছয় দফা দাবিতে প্রতিদিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায় বলেন, ‘আমরা ছয় দফা দাবিতে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি।’ তিনি পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

মন্তব্য