kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

যে জীবিকায় জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুপ্রেম

রফিকুল ইসলাম   

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যে জীবিকায় জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুপ্রেম

আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ের সামনে ভিড়ের মধ্যেও ঠায় দাঁড়িয়ে ১৪-১৫ বছরের একটি ছেলে। তার মাথায় সাদা টুপি। পরনে পায়জামা-পাঞ্জাবি। সাদা একটি বোর্ড বুক ছুঁইয়ে রেখেছে। সাদা কাপড়ে মোড়ানো বোর্ডে পিন দিয়ে সাঁটানো আছে স্টিলের তৈরি নানা প্রতীক। নৌকার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, কোনোটিতে শুধু বঙ্গবন্ধু কিংবা শুধু নৌকা। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ছবি একসঙ্গে করেও প্রতীক বানানো হয়েছে। মিনহাজ নামের ছেলেটি ফেরি করে প্রতিদিনই বিক্রি করে এসব প্রতীক। আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠান হলেই সেখানে ছুটে যায় প্রতীক বিক্রি করতে। আর তার এই আয়ে চলে পরিবার। শিশুটি জানায়, তার বাবারও পেশা এই প্রতীক বিক্রি করা। তবে বাবাকে সহায়তা করা শুধু নয়, সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকেও মিনহাজ এই প্রতীক ফেরি করে বেড়ায় পথে পথে। মিনহাজ রাজধানীর একটি হাফেজি মাদরাসায় পড়ালেখা করেছে। পবিত্র কোরআন মুখস্থ। স্কুলে যাওয়া হয়নি।

শিশুটি জানায়, পূর্ব পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন তার বাবা ফজলুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবেই তার বাবা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, আওয়ামী লীগের লোগো ও দলীয় প্রতীক নৌকা, শেখ হাসিনার ছবি, ব্যাজ পথে পথে বিক্রি করেন। আওয়ামী লীগের কোনো জনসভা বা বড় অনুষ্ঠান হলেই শার্ট বা পাঞ্জাবিতে ঝুলিয়ে রাখা যায়—এমন প্রতীক নিয়ে ছুটে যান ফজলুর রহমান। কখনো কখনো আওয়ামী লীগের নেতাদেরও নিজ হাতে তিনি পরিয়ে দেন, খুশি হয়ে যে টাকা নেতারা দেন তাতেই ফজলুর সন্তুষ্ট থাকেন। ছোট্ট একটি দোকান রয়েছে, সেখানেও এসব প্রতীক বিক্রি করেন তিনি।

গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ের সামনে কথা হয় মিনহাজের সঙ্গে। তখনো সে প্রতিকৃতি ও প্রতীক বিক্রিতে ব্যস্ত ছিল। সরকারদলীয় লোকজনও আগ্রহ ভরে দেখছিল সেগুলো। কেউ কেউ দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছে, কেউ বা কিনছে। মিনহাজ সেই প্রতীক ক্রেতার জামার সঙ্গেও ঝুলিয়ে দিচ্ছিল।

মিনহাজ বলে, ‘আমার আব্বা দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবসা করেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি সেটি করেন। কোনো অনুষ্ঠান হলে আব্বা সেখানে ছুটে যান। বড় বড় নেতার শরীরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, নৌকা আর আওয়ামী লীগ লেখা ব্যাজ পরিয়ে দেন। নেতারা খুশি হলে টাকা দেন। আমাদের ছোট্ট একটা দোকানও আছে, সেখানেও প্রতীক বিক্রি করা হয়।’

মিনহাজ জানায়, তারা রায়েরবাজারে ভাড়া বাসায় থাকে। স্থানীয় বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। রায়েরবাজারে আওয়ামী লীগ নেতারা গেলে সেখানেও তার বাবা তাঁদের জামায় ব্যাজ পরিয়ে দেন। শিশুটি বলে, ‘আমিও সেই ভালোবাসা থেকেই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও আওয়ামী লীগের ব্যাজ বিক্রি করি।’

গত মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইল ফোনে কথা হয় মিনহাজের বাবা ফজলুর রহমানের সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান আমল থেকেই বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। স্বাধীনতাসংগ্রাম ও নতুন দেশ গঠনে অসামান্য নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক আমি। সংসার চালাতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, আওয়ামী লীগের লোগো ও প্রতীকসংবলিত ব্যাজ বিক্রি করি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা