kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা দাবি মানার আশ্বাসে ছাত্ররা নমনীয়

শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে সমস্যায় নতুন মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক, নোয়াখালী   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পূর্বঘোষণা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের দাবি মানার আশ্বাসের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) একটি অস্থির দিন পার করল। দিন শেষে শিক্ষার্থীরা বিজয়ের হাসি হাসলেও শিক্ষা কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে শিক্ষক সমিতির অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণায়, যা গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে।

গতকাল সকাল ৯টার দিকে উপাচার্যের দপ্তরসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনের প্রধান ফটকে ৯ দফা দাবিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। এতে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য এম অহিদুজ্জামানসহ শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর ৯ দাবির মধ্যে আটটি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে দুপুরের পর শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেয়।  মঙ্গলবারও একই দাবিতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবন তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

৯ দাবির মধ্যে ১২ সেমিস্টারকে ১৪ সেমিস্টার করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। বাকি আট দাবি  মানার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আছে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন হল শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া, মেডিক্যাল সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সিক বেডে পরীক্ষার অনুমতি দান, মানোন্নয়ন পরীক্ষার ন্যূনতম জিপিএ ২ দশমিক ৫ করা, ব্যাকলগ এবং ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার ফি (প্রবেশপত্রসহ) ৩০০ টাকা করা, রোভার স্কাউট ও বিএনসিসির বার্ষিক ফি ৫০০ টাকা এককালীন ভর্তি ফির সঙ্গে সমন্বয় করা, স্পেশাল টার্ম ও শর্ট টার্ম পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং আবাসিক হলের ডাইনিংয়ে ভর্তুকি দেওয়া।

উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান বলেছেন, ‘ছাত্রদের দাবির  অনেকগুলোই যৌক্তিক। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আজ থেকেই ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নেবে।’ প্রক্টর মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির বিষয়ে সকালেই উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল। এর আগেই তারা বিভিন্ন ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি দীর্ঘদিন ধরে অগ্রাহ্য করে আসছে। ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম রবিন বলেন, ‘আজ কয়েক বছর পর্যন্ত শুধু আবাসিক হল নির্মাণই করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বাইরে বাইরে মেস করে থাকতে হচ্ছে। মেডিক্যাল ব্যবস্থা থাকলেও সন্ধ্যার পর কোনো সেবা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। এসব নিয়ে এর আগেও আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা। তাই তারা আজও তালা ঝুলিয়েছে। পরে আমরা শিক্ষার্থীরা ভিসি ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে সম্মতি আদায় করেছি।’

এদিকে নোবিপ্রবির শিক্ষক সমিতি শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রদের অসদাচরণ, তাঁদের চলাফেরা ব্যাহত করা, শিক্ষকদের তাঁদের অফিসকক্ষে প্রবেশ করতে না দেওয়ার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা নেবে না বলে ঘোষণা দেয়। সমিতির সভাপতি ড. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ৭ আগস্ট কতিপয় ছাত্র একইভাবে একাডেমিক ভবনে তালা মেরে রাখে এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি জরুরি বৈঠক করে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তারা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক তারা আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

 

মন্তব্য