kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

‘গণহত্যা’ প্রচারণা চলছেই

গুজবের হোতারা অনলাইনে সক্রিয়

মেহেদী হাসান   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরলেও অনলাইনে ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছে সেই গুজব ছড়ানো চক্র। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও দেখা গেছে ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তারা ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যা, ধর্ষণ এবং গণহত্যা হয়েছে বলে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেগুলোতে বিদেশিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাংলাদেশ পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে ন্যায়বিচারের দাবিতে অনলাইনে যে পিটিশন খোলা হয়েছিল তা গতকালও উন্মুক্ত ছিল। তবে চেঞ্জ ডট অরগ (www.change.org) নামে ওই পিটিশন ওয়েবসাইটটিতে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ঢুকতে সমস্যা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওই পিটিশন সাইটটিতে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়ে আরেকটি পিটিশন গতকালও উন্মুক্ত ছিল। তবে ‘স্টপ দ্য কন্সপিরেসি অ্যাগেইনস্ট বাংলাদেশ স্টুডেন্টস লীগ (বিএসএল)’ শীর্ষক আরেকটি পিটিশন খোলা হয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ সপ্তাহের শুরুর দিকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতার জন্য অনেক আন্দোলনকারী ও বিভিন্ন মহল ছাত্রলীগকে দায়ী করেছে। তবে ছাত্রলীগ তা অস্বীকার করে আসছে। ওই সংঘাতের সময় বেশ কিছু বানোয়াট ও রক্তাক্ত ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যা ও ধর্ষণের গুজব ছড়িয়েছিল একটি চক্র। এ দাবির সত্যতা দেশি-বিদেশি মূলধারার কোনো গণমাধ্যমই নিশ্চিত করতে পারেনি।

তবে গুজব ছড়ানো চক্রের প্রচারণা এখনো থেমে নেই। ফেসবুক, টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে গতকালও সেগুলোর প্রচার চালানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ট্যাগ করে দেওয়া হচ্ছে সেসব। বিবিসি বাংলায় গত বুধবার প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেক গুজব ছড়াতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ছড়ানো এসব গুজবের কারণে সহিংসতাও ঘটেছে। অনেক সাধারণ মানুষ সেই গুজবগুলো বিশ্বাস করার কারণে সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে গেছে। কোনটি গুজব আর কোনটি সত্য তা যাচাই করার উপায় নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকারও প্রচার করেছে বিবিসি।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ‘মিথ্যা খবর’ ও ‘গুজব’ ছড়ানোর বিষয়টি তারাও বেশ ভালোভাবে অবগত। প্রায়ই তারা এমন অভিযোগ পায় যার সত্যতা নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, কোনো সন্দেহ নেই যে ছাত্র আন্দোলন সহিংসতার মধ্যে পড়েছিল। এ জন্য তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় উদ্বেগ, তদন্ত ও দোষীদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু যেভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ওই কূটনীতিক আরো বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে। উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোও অপপ্রচার চালিয়ে জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুযোগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি কেউ একে কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তির চেষ্টা করছে কি না সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।

ওই কূটনীতিক বলেন, তাঁর দেশসহ অনেক দেশই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদ ও ‘হেট স্পিচ’ (বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য) প্রচারণার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর। এগুলো নজরদারির জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষও আছে।

 

 

মন্তব্য