kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সিরাজদিখানে সাত গ্রামে ১৪ ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত ১৫

২০-২২ বছর ধরে চলছে এই আধিপত্যের লড়াই

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে উভয় পক্ষের তিনজন টেঁটাবিদ্ধ হয়। সাত গ্রামের লোকজন নুরু বাউল গ্রুপ ও নাছির মোল্লা মেম্বার গ্রুপের হয়ে এ সংঘর্ষে জড়ায়। বুধবার রাত ৯টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত টানা ১৪ ঘণ্টা এ সংঘর্ষ চলে।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের পিকআপ ভ্যানসহ বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আওলাদ মোল্লা, তকদির মোল্লা ও নাছির মোল্লা টেঁটাবিদ্ধ হন। এ ছাড়া ইসলাম বেপারী, আলেক মোল্লা, সিরাজদিখান থানার এসআই সোহেল রানা, এএসআই আনোয়ার হোসেন, এএসআই সোহাগ মিয়া গুরুতর আহত হন। আহতরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বুধবার রাত ৯টার দিকে প্রথমে বালুচর বাজারে সংঘর্ষ বাধে। এরপর তাবালুচর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি, রাজনগর, খাসনগর, আকবরনগর, খাশমহল ও লতব্দি ইউনিয়নের ভাষানচর ও দোসরপাড়া গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে জেলা ডিবি পুলিশসহ সিরাজদিখান থানা, শ্রীনগর থানা ও শেখরনগর তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দুই পক্ষের প্রধান নুরু বাউল ও সাবেক মেম্বার নাছির মোল্লাসহ ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে ৮৩টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানার এসআই সোহেল রানা ৫৮ জনসহ অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২০-২২ বছর ধরে কিছুদিন পরপরই এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। গত দুই মাস আগে রমজানের ঈদের দিনসহ তিন দিন সংঘর্ষের মহড়া চলে। পুলিশ দুই পক্ষকে ডেকে থানায় এনে লিখিত নেয় কেউ যাতে ঝামেলায় না জড়ায়। এ ছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিসে দুই পক্ষকে নিয়ে একটি মীমাংসা হয়। কিন্তু দুই মাস না যেতেই আবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সিরাজদিখান সার্কেল) আসাদুজ্জামান আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের একাধিক মামলা রয়েছে। অনেকবার মীমাংসাও হয়েছে। তবে এবার দুই গ্রুপের মূল হোতাদের আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে সিরাজদিখান থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

 

মন্তব্য