kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ড. আফতাব হত্যা মামলা

বিএনপি নেতা তৃপ্তি কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আফতাব আহমেদ হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মো. মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর এই নির্দেশ দেন।

গতকাল মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তৃপ্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে হাজির করে। অন্যদিকে তৃপ্তির পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা জামিনের আবেদন জানান। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরীর আদালতে শুনানি হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, এ মামলা নিয়ে তৃপ্তির পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন ছিল। পরে ওই রিটের আদেশসহ আগামী ১৩ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

ড. আফতাব হত্যা মামলার এক যুগ পর গত বুধবার তৃপ্তিকে বনানীর ন্যাম ভবন এলাকায় তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ফুলার রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোয়ার্টারের চতুর্থ তলায় নিজ বাসায় অধ্যাপক আফতাবকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। তিন দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে তাঁর স্ত্রী নুরজাহান আফতাব শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে ঘটনার সময় কলিংবেলের শব্দে গৃহকর্মী দরজা খুলে দিলে জিন্স প্যান্ট ও মাথায় ক্যাপ পরা কয়েকজন দ্রুত ভেতরে ঢুকে আফতাবকে তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় সিঁড়ির নিচেও দুজন দাঁড়িয়েছিল।

মামলার বাদী আফতাব আহমেদের স্ত্রী নুরজাহান বেঁচে নেই। তবে তাঁর জবানবন্দি এ মামলার নথিতে রয়েছে। তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন, আফতাব আহমেদ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টক শোতে অংশ নিতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সরকারের সমালোচনা করতেন। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল।

এদিকে ২০০৮ সালে দেশের এক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল হাসান ইমনকে ভারত থেকে ফেরত আনা হয়। ওই সময় ইমন এ মামলায় একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আদালতে। ইমন নিজে আফতাব হত্যা মামলায় জড়িত ছিলেন না। তবে তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন। জবানবন্দিতে ইমন বলেছেন, তিনি ভারতে অবস্থানকালে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়ের সহযোগী কাঁকন ও ল্যাংড়া তাজগীর তাঁকে বলেছিলেন, জয় ও তাঁর লোক আবলান, রফিক, এতিম বেলাল, খোকন ও মাহবুব এ হত্যায় জড়িত। আবলান, রফিক ও এতিম বেলাল বাসায় গিয়ে আফতাবকে গুলি করেন। ইমনের জবানবন্দিতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে জয় এখনো ভারতে পলাতক। খোকন ২০০৬ সালে রমনায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন, আবলান ২০০৮ সালের নভেম্বরে মোহাম্মদপুরে খুন হন। রফিক, এতিম বেলাল ও মাহাবুবের পুরো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। আফতাব হত্যাকাণ্ডের পর সোয়েব সাইফ এবং আরো দুই সন্দেহভাজন হুমায়ুন কবীর মুন্না ও সালেহ আহম্মদ সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।  তাঁরা বর্তমানে জামিনে।

 

মন্তব্য