kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

টিকিট পেতে কমলাপুরে রাতজাগা ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিকিট পেতে কমলাপুরে রাতজাগা ভিড়

ঈদের আগাম টিকিটের জন্য গতকালও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

যানজট এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে মানুষ ট্রেনের দিকে ক্রমেই অধিক হারে ঝুঁকে পড়ছে। এ জন্য ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই রাজধানীর কমলাপুরে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। তবে আগাম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবারের ভিড় আগের দিনকে ছাড়িয়ে গেছে।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর গতকাল সকাল ১১টায় টিকিট সংগ্রহ করতে সক্ষম হন আলী হোসেন। কিন্তু টিকিট সংগ্রহ শেষে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়ে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়। জানালেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় তিন বন্ধু মিলে অন্যদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়ান। কেউ কেউ আবার দালাল ধরে সিরিয়াল কিনে রেখেছে। টিকিট পেতে গতকাল সকাল থেকে ভিড়ের মধ্যে তাই ‘যুদ্ধ’ করতে হয়েছে যাত্রীদের।

গতকাল দুপুরে টিকিট হাতে নিয়ে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন হওয়ার পরও দুর্ঘটনা ঘটছে। ভয়াবহ যানজট তো আছেই। এই ভয়েই ১৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ট্রেনের টিকিট নিলাম। ঈদের ছুটিতে ১৮ আগস্ট পরিবারের দুই সদস্যকে নিয়ে চট্টগ্রামে যাব।’

গতকাল বিক্রি করা হয় ১৮ আগস্ট ট্রেন ভ্রমণের টিকিট। সকাল ৮টায় শুরু হয় টিকিট বিক্রি। কমলাপুর রেলস্টেশনের ২৬টি কাউন্টারের সবটাতেই ছিল প্রচণ্ড ভিড়। দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত। তবে সে দুটিতেও ভিড় ছিল।

বুধবার রাত ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রংপুর যাওয়ার জন্য গতকাল দুপুর ১২টায় টিকিট পান নজরুল ইসলাম বাসন। বললেন, ‘ঘাম ঝরল, নির্ঘুম থাকলাম। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্তির শেষ সীমায় পৌঁছে বড় কষ্টে একটি টিকিট পেলাম।’ চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য চারটি টিকিট পান রমজান আলী। বললেন, ‘আত্মীয়দের জন্য রাতভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কিনলাম।’

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ধরে ১০ দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি। আজ শুক্রবার বিক্রি করা হবে ১৯ আগস্টের টিকিট। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের মোট টিকিটের ৬৫ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে। বাকি ৩৫ শতাংশের ২৫ শতাংশ অনলাইন ও মোবাইলে, ৫ শতাংশ ভিআইপি এবং বাকি পাঁচ শতাংশ রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়েই টিকিট নিতে হচ্ছে মানুষকে। না হলে শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।’

বাসের টিকিট নেই : গতকাল রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যালসহ আশপাশের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ‘টিকিট নেই’ রব ছিল। ২০ ও ১৯ আগস্টের টিকিট পেতে হন্যে হয়ে ঘুরতে হয়েছে মানুষকে। কল্যাণপুরে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার টিকিট নিতে আসা শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘দুটি টিকিট পেতে এক ঘণ্টা ধরে ঘুরছি, কিন্তু পাচ্ছি না।’ মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে টিকিট পাওয়া গেলেও সেগুলো ১৭ ও ১৮ আগস্টের।

মন্তব্য