kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

রায়পুরায় নৃশংসতা

গৃহবধূকে ন্যাড়া সিগারেটের ছেঁকা

নরসিংদী প্রতিনিধি   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদীর রায়পুরায় যৌতুক এনে না দেওয়ায় এক গৃহবধূর মাথার চুল ও ভ্রু কেটে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শরীরে দেওয়া হয়েছে সিগারেটের ছেঁকা। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে তাঁর পরিবার। ঘটনাটি রায়পুরা উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গৃহবধূ অথরা আক্তার সুমি (২২) বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন—স্বামী কবির মিয়া, শ্বশুর আ. হাশেম, শাশুড়ি হলেমা বেগম, দেবর হুমায়ুন ও ননাস পারভীন বেগম। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ও তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয় বছর আগে রায়পুরার পলাশতলী ইউনিয়নের শাহরখোলা গ্রামের মুদি দোকানি বাহার উদ্দিনের মেয়ে অথরা আক্তার ওরফে সুমির সঙ্গে একই উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের হাশেম মিয়ার ছেলে কবির মিয়ার বিয়ে হয়। কবির একটি রিকশা গ্যারেজের মালিক। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে কবির মিয়া ব্যবসা বাড়ানোর কথা বলে যৌতুক দাবি করে। যৌতুক এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে বিভিন্ন সময় সুমি বাবার বাড়ি থেকে প্রায় ষাট হাজার টাকা যৌতুক এনে দেন। সমপ্রতি কবির মিয়া বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। ঘর নির্মাণ করার জন্য তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সুমি যৌতুক এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার বিকেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সুমিকে মারধর শুরু করে। পরে কাঁচি এনে প্রথমে তাঁর মাথার চুল কেটে দেয় স্বামী কবির মিয়া। পরে তাঁর দেবর হুমায়ুন এসে কেটে দেয় চোখের ভ্রু। এ সময় তাঁর শ্বশুর হাশেম মিয়ার হাতে থাকা সিগেরেট দিয়ে সুমির দুই হাতে ছেঁকা দেন। একপর্যায়ে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর মিলে সুমিকে মারধর শুরু করে। এ ঘটনার একপর্যায়ে সুমি অচেতন হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে তাঁর বাবার বাড়ি লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

সুমি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য আমার ওপর নির্যাতন শুরু করে। আমি কয়েকবারে ৬০ হাজার টাকা এনে দিয়েছি। এবার ঘর বানানোর কথা বলে তিন লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য বলে। কিন্তু আমার বাবা মুদি দোকান চালিয়ে আমাদের সংসার চালায়। এত টাকা দেওয়া সম্ভব না। সেই কথা ভেবে তাদের নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেছি।’

সুমির মা হেলেনা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা দিমু কই থেকা। মাইয়াডা আমগো কথা চিন্তা কইরা সব নির্যাতন সহ্য করছে। এহন তার চুল, ভ্রু, সিগারেটের ছেঁকা দিয়া মাইরা ফালাইতে চাইছিল। আমি তা গো উপযুক্ত বিচার চাই। আর আমার মাইয়ার মতো এমন নির্যাতন যেন কারো ওপর না আসে।’

রায়পুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সুমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়েছি। তবে ঘটনার পর তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’

মন্তব্য