kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

বাংলাদেশে যৌতুকের হার কমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশে ষাটের দশক থেকে ধীরে ধীরে দেনমোহরের পরিমাণ বেড়েছে। একই সময়ে যৌতুকের হার কমেছে। এমন দাবি করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়। এতে বলা হয়েছে, মুসলিম পারিবারিক আইনের কারণে নয়; ষাটের দশকে কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের কারণে বাংলাদেশে বিয়েতে নারীদের দেনমোহরের হার বেড়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং এর তিন বছর পর ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কারণে যৌতুকের হার কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই গবেষণায়।

গবেষণাটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শ্যামল চৌধুরী। গবেষণায় তাঁর সহযোগী ছিলেন আরো দুজন। তাঁদের একজন দেবদুলাল মল্লিক, যিনি অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক। অন্যজন হলেন প্রবাল রায় চৌধুরী, তিনি ভারতের পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি। গবেষণা প্রতিবেদনটি আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে গ্রামাঞ্চলে যেসব নারীর বিয়ে হয়েছিল, তাদের গড় দেনমোহর এখনকার টাকার মূল্যে ছিল ১৮ হাজার টাকা। ১৯৬১ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত গড় দেনমোহর বেড়ে ৫৭ হাজার টাকা হয়। ১৯৭৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রতি নারীর গড় দেনমোহর বেড়ে ৬০ হাজার টাকা হয়েছে। বিপরীত দিকে গত ষাট বছরে বাংলাদেশে যৌতুকের হার কমেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড় যৌতুকের হার ছিল ৫৪ হাজার টাকা। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সেটা ছিল ৫৮ হাজার টাকা। এখন যৌতুকের হার ২৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শ্যামল চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা গ্রামাঞ্চলে নিম্নবিত্ত তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়ে গবেষণাটি করেছি।’

গণমাধ্যমে ও নারী অধিকার সংগঠনের প্রতিবেদনে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ নির্যাতন-খুন হওয়া এবং টাকার অঙ্ক বাড়ার খবর তাঁদের গবেষণার তথ্য সমর্থন করছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্যামল চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা হয়তো মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্তের কথা বলছেন। আমরা গ্রামের নিম্নবিত্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পেয়েছি। তবে কত টাকা যৌতুক দেওয়া হয়েছিল, তার প্রমাণ যেহেতু নেই বা রাখা হয়নি, তাই একটু এদিক-সেদিক হতে পারে। দেনমোহরের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ ছিল না। কারণ দলিলে তা লেখা ছিল।’ গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের কারণে বিয়েতে নারীদের দেনমোহর বেড়েছে বলা হলেও এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বরং ষাটের দশক থেকে শুরু হওয়া কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের কারণে নারীদের ক্ষমতায়ন হতে শুরু করে। তখন থেকে মেয়েরা কর্মক্ষেত্রে যেতে শুরু করে। আর এর প্রভাব পড়ে বিয়ের বাজারে। মুসলিম পারিবারিক আইনের কারণে যে দেনমোহরের পরিমাণ বাড়েনি; তার প্রমাণ মিলেছে পশ্চিমবঙ্গে গিয়েও। সেখানে এক হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়ে দেখা গেছে, কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের কারণে নারীদের ক্ষমতায়ন ও কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের কারণে দেনমোহরের হার বেড়েছে।

গবেষণায় আরো দেখানো হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর যৌতুকের কারণে ২০০ নারী মারা যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের চিত্র বলছে, যৌতুকের প্রবণতা ও হার দুটোই বেড়েছে।

মন্তব্য