kalerkantho

বুধবার। ১৯ জুন ২০১৯। ৫ আষাঢ় ১৪২৬। ১৫ শাওয়াল ১৪৪০

স্কুলছাত্রী চাঁদনীর আত্মহত্যা

‘বখাটে’ শুভসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

খুলনা অফিস   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বখাটে’ শুভসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

খুলনায় উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে স্কুলছাত্রী শামসুন নাহার চাঁদনীর আত্মহত্যার মামলায় ‘বখাটে’ শামীম হাওলাদার শুভ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী মাফিয়া কবিরসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইউসুফ আলী মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট জমা দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার লবণচরা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, চার্জশিটে শুভ ও মাফিয়া কবির ছাড়াও শুভর বাবা শাহ আলম ও মা জাকিয়া বেগমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত মো. হাসিবের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলায় পুলিশ বাদে মোট ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর রাতে নগরীর হরিণটানা প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে চাঁদনীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। চাঁদনী খুলনার সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট রবিউল ইসলামের মেয়ে।

এ ঘটনায় ১৪ অক্টোবর রাতে রবিউল বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ‘বখাটে’ শুভ, তার বাবা শাহ আলম ও মা জাকিয়া বেগম, হাসিব ও প্রতিবেশী আওয়ামী লীগ নেত্রী মাফিয়া কবিরকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ঘটনার পর পুলিশ হাসিব ছাড়া বাকি চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার বাদী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুভ প্রায়ই চাঁদনীকে উত্ত্যক্ত করত। জানতে পেরে চাঁদনীর বাবা রবিউল বিষয়টি শুভর মা-বাবাকে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৩ অক্টোবর বিকেলে শুভ তার সাত-আটজন সহযোগী নিয়ে চাঁদনীদের বাসায় যায়। এ সময় রবিউলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয় ও বখাটে শুভ রবিউলকে মারধর করে। একপর্যায়ে চাঁদনীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। রাতে আবার শুভ দলবলসহ তার মাকে নিয়ে চাঁদনীদের বাসায় যায়। এ ঘটনার পর ওই রাতেই চাঁদনী ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

লবণচরা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলায় আসামি করা হাসিবের সঙ্গে চাঁদনীর বাবার জমি বেচাকেনাসংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ ছিল। সে কারণে চাঁদনীর বাবা এই মামলার এজাহারে তার নাম দিয়েছিলেন। তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে হাসিবের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা