kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

চুয়াডাঙ্গায় মুক্তিযোদ্ধা হত্যা

যশোর কারাগারে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চুয়াডাঙ্গা জেলার মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় দুই আসামি মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। দুজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার কামাল আহমেদ জানান, রাত পৌনে ১২টায় তাঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যা থেকেই কারাগারের আশপাশে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রাত ৯টার পর থেকে কারাগারে ঢুকতে থাকেন প্রশাসনের লোকজন। এর আগে সকালে মোকিম ও ঝড়ুকে শেষবারের মতো দেখতে যায় স্বজনরা।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেনকে ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন গ্রামের বাদল সর্দারের বাড়িতে কুপিয়ে হত্যা করে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কতিপয় সদস্য। ওই দিনই নিহত মনোয়ারের ভাই মুক্তিযোদ্ধা অহিম উদ্দীন বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১৪ বছর পর ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল ওই মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির দুই আঞ্চলিক নেতা দুর্লভপুর গ্রামের আব্দুল মোকিম, ঝড়ুসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একই গ্রামের আমিরুল ইসলাম ও হিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতে আপিল সূত্রে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামির এবং আমিরুল ইসলাম ও হিয়ার দণ্ড মওকুফ করা হয়। মোকিম ও ঝড়ুর ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে।

মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার হোসেন দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি কৃতী খেলোয়াড় হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। নিহত মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ার মেম্বারের ছেলে কুমারী ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২ আসামির ফাঁসির বিষয়টি কয়েক দিন আগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ও চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়েছিলেন। সে সময় কবে ও কখন ফাঁসি কার্যকর করা হবে তা জানানো হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ফাঁসি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঝড়ুর লাশ গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে তরিকুল ইসলাম। আর মোকিমের লাশ গ্রহণ করেন তাঁর ছেলে মখলেছ আলী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা