kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

শর্ত পূরণ ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি : মওদুদ

সেনাবাহিনীকে বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে : খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শর্ত পূরণ’ ছাড়া অংশ নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনাসভায় মওদুদ এ কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ-ভাসানী) উদ্যোগে প্রয়াত আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী ও সংগঠনের প্রয়াত সহসভাপতি অধ্যাপক এম এ জাব্বারের স্মরণে এ আলোচনাসভা হয়।

এদিকে আরেকটি ‘প্রহসন’র নির্বাচন করতেই ক্ষমতাসীনরা সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার ‘ষড়যন্ত্র’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনাসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

ন্যাপের আলোচনাসভায় মওদুদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমরা অংশ গ্রহণ করব। তার মানে এই নয় যে এই নির্বাচনগুলোতে যেহেতু অংশ গ্রহণ করছি তাহলে জাতীয় নির্বাচনে আমাদের ওই একই শর্তে অংশগ্রহণ করতে হবে। না, সেটা কখনই নয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আগামী দিনে একদলীয়ভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।’

মওদুদ বলেন, ‘যদি আওয়ামী লীগ মনে করে যে তারা খুব জনপ্রিয় তাদের তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তাহলে আসুন একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের ৯০ দিনের আগে অবশ্যই সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংসদ রেখে নির্বাচন হতে পারে না, সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘যত কথাই বলেন না কেন, যে প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন হবে, তিনি শুধু রুটিন কাজ করবেন, তাতে চলবে না। কারণ আমরা জানি আওয়ামী লীগকে। তারা মুখে এক কথা বলে, কাজে আরেক কাজ করে। আর নির্বাচনের সময়ে নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। আমরা চাই সমঝোতার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হোক।’

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, ন্যাপ-ভাসানীর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা আখন্দ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শওকত আমিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সেনাবাহিনীকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র হচ্ছে—খসরু : তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ‘আগামী প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং তারেক রহমান’ শীর্ষক আলোচনাসভায় খসরু বলেন, তারা (সরকার) প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে রাখতে চাচ্ছে, সেই প্রহসনের নির্বাচনের দিকে আবার যাওয়ার জন্য। অর্থাৎ নির্বাচন নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার প্রক্রিয়ায়, ক্ষমতা দখল করার প্রক্রিয়ায় তারা আছে।

তিনি বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে আমরা বলতে চাই, প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞার মধ্যে  অন্তুর্ভুক্ত করতে হবে, তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের নির্বাচনের প্রক্রিয়া এ দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। তাদের (সেনাবাহিনী) যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, কোনো সুস্থ মস্তিষ্কে সেই নির্বাচনের দিকে যাওয়াটা বিপজ্জনক হবে।’

সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার দুইটা দিক আছে। এটা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষমতা, অন্যটি বিচার করার ক্ষমতা। আমরা বিচার করার ক্ষমতার কথা বলছি না, আমরা ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাটা দিতে বলছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য।’

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আজকে এখানে কনফিউশন (বিভ্রান্তি) সৃষ্ট করে তারা (ক্ষমতাসীন) সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাকে বাদ দিতে চাচ্ছে। একজন পুলিশ কমিশনারেরও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আছে, সেটা বিচারের ক্ষমতা নয়। সেটা হচ্ছে কোনো রকমের বিপদ দেখা দিলে তখন কিন্তু পুলিশ কমিশনার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত দিয়ে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন।’

সংগঠনের সভানেত্রী খালেদা ইয়াসমীনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সালাম আজাদ, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য