kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

মাঠজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য

সপ্তাহখানেক পরই রংপুরের বাজারে আসছে নতুন আলু

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সপ্তাহখানেক পরই রংপুরের বাজারে আসছে নতুন আলু

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সবার আগে আগাম আলু উত্তোলনকে ঘিরে কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। দলবেঁধে আলুক্ষেত পরিচর্যার এ ছবিটি তোলা হয়েছে উপজেলার বড়ভিটা এলাকা থেকে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সপ্তাহখানেক পরই রংপুরের বাজারে উঠতে শুরু করবে নতুন আলু। রোপণের পর আলুর বয়স এরই মধ্যে ৩৫ দিন পেরিয়ে গেছে। আগাম আলু চাষের এলাকা হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের কৃষকরা স্বল্পমেয়াদি জাতের এই আলুর চাষ করেছে, যা এখন বাজারে ওঠার অপেক্ষায়।

কৃষি বিভাগ জানায়, রংপুর অঞ্চলে রবি মৌসুমের অর্থকরী ফসল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে আলু। এ ছাড়া রংপুরের গঙ্গাচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় একসময়ের পতিত জমি তিস্তার চরে আলুর বাম্পার ফলন হচ্ছে। গত বছর এই তিন উপজেলায় ২০ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে গঙ্গাচড়ায় সাত হাজার হেক্টর, পীরগাছায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর ও কাউনিয়ায় চার হাজার ২০০ হেক্টর। যার মধ্যে তিস্তার চরে আগাম আলু উৎপাদিত হয়েছিল আট হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। গত বছর আলুতে লোকসান হওয়ায় চলতি বছর এই অঞ্চলে আরো বেশি জমিতে আগাম আলু চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার চর ছাওলা, চর তাম্বুলপুর, শিবদেব ও রহমতচর, গঙ্গাচড়ার ইছলীচর, শংকরদহ, জয়রামওঝা এবং কাউনিয়ার গদাই ও ঢুঁসমারার চর ঘুরে দেখা যায়, আগাম ও স্বল্পমেয়াদি জাতের আমন ধান কর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা আগাম আলু রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে চলছে স্বল্পমেয়াদি ও আগাম জাতের আমন ধান কর্তন, অন্যদিকে চলছে গরুর হাল কিংবা পাওয়ার টিলারের সাহায্যে আলু রোপণের জমি তৈরি। কোথাও কোথাও আগাম আলু রোপণে কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটছে।

জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে বেশি মুনাফার আশায় নীলফামারীর কিশোগঞ্জের কৃষকরা আমন ধান কাটার পর শীতকালীন ফসল হিসেবে (রবি মৌসুম) আগাম আলুর চাষ করে থাকে। এই আলু চাষের জন্য তারা স্বল্পমেয়াদি ও আগাম জাতের (১০০ থেকে ১১০ দিন জীবনকালের) আমন ধানের চাষ করেন। প্রচলিত আমন ধান কাটতে আরো মাসখানেক সময় লাগবে। অথচ কিশোরগঞ্জে আগাম ধানের কর্তন প্রায় শেষ হয়েছে। ওই জমি চাষ করে কৃষকরা আগাম আলু রোপণ করছে। মৌসুমের শুরুতে বছরের নতুন এই আলু স্থানীয় বাজার ছেড়ে চলে যায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কৃষকরাও লাভবান হচ্ছে। এ জন্য গত কয়েক বছরে উত্তর জনপদের আগাম আলু উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ। অন্য এলাকায়ও কিছু কিছু জমিতে আগাম আলু হলেও কিশোরগঞ্জের জমিগুলো উঁচু ও মাঝারি উঁচু হওয়ায় এখানে যেমন আগাম ধান হয়, তেমনি ধান কর্তনের পর ওই জমিতে রোপণ করা হয় আগাম আলু। মৌসুমের শুরুতে আগাম এই আলু বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় কৃষকরাও লাভবান হয়। এ পদ্ধতিতে একই মৌসুমে একই জমিতে কৃষকরা দুইবার আলু চাষ করতে পারে।

সরেজমিন কিশোরগঞ্জের মাগুড়া, রনচণ্ডী ও বড়ভিটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকরা। বড়ভিটা গ্রামের শাহিন মিয়ার ক্ষেতে আলু রোপণ করছিলেন ৮-১০ জন শ্রমিক। কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, ‘গত বছরের আলুতে লোকসান হয়েছে। এবারের আলু দিয়ে তা পূরণ করার ইচ্ছা আছে। আগাম আলু বাজারে তুলতে পারলেই কেজি ৫০-৬০ টাকা বিক্রি হবে। ওই এলাকায় আব্দুর রউফের তিন বিঘা, আব্দুল হামিদের দুই বিঘা, হাসেম আলীর তিন বিঘাসহ অনেকের আগাম রোপণকৃত আলু উত্তোলনের প্রায় সময় হয়েছে।

দক্ষিণ বড়ভিটা এলাকার কৃষক রাশেদুল করিম জানান, তিনি তাঁর দেড় বিঘা জমিতে ‘আলোড়ন’ নামের হাইব্রিড জাতের ধান লাগিয়েছিলেন। ১০৭ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ধান কাটার পর জমি তৈরি করে ১১ অক্টোবর ‘সাগিতা’ জাতের আলু রোপণ করেন। যার জীবনকাল ৪৫ থেকে ৫০ দিন। ক্ষেতে তাঁর আলুর বয়স হয়েছে ৩৭ দিন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে তাঁর আলু উত্তোলন করা যাবে বলে রাশেদুল করিম জানান। এরপর ওই জমিতে দ্বিতীয় দফায় আলু রোপণেরও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি বছর কিশোরগঞ্জের ৯ ইউনিয়নে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে। ধান কর্তন শেষ হওয়ায় ওই সব জমিতেই লাগানো হয়েছে আগাম আলু।

সূত্র আরো জানায়, গত বছর উপজেলায় ছয় হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে আগাম আলু চাষ করা হয় তিন হাজার হেক্টরে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষ হয়েছে। তবে এ বছর আগাম আলু সাড়ে তিন হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে।

মন্তব্য