kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

দক্ষিণে আমনের বাম্পার ফলনের আশা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবুজ মাঠ এখন পাকা ধানে ভরা। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা। কৃষকের আঙিনায় উঠতে শুরু করেছে পাকা ধান। ধানক্ষেতে আশার চেয়ে ফলন হওয়ায় খুশি কৃষকরা। তবে ধানের দাম নিয়ে এবারেও সংশয়ে রয়েছে তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও বলছেন, তেমন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে আমনের বাম্পার ফলন হবে। গতবারের তুলনায় এবার ফসলি মাঠে পোকার উপদ্রব কম থাকায় এ সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে বলে তাঁদের অভিমত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভাগের ছয় জেলায় সর্বমোট সাত লাখ ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৪০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, তিন লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭ হেক্টর জমিতে উফশী এবং তিন লাখ ৯৩ হাজার ৫৬৩ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাত আবাদ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৬৮৫ টন চাল।

বিভাগের বরিশাল জেলায় এক লাখ ২৭ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে আমন। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার টন চাল। পিরোজপুর জেলায় ৬২ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করার বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ১৮ হাজার ৪৭৭ টন চাল।

ঝালকাঠি জেলায় ৫০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আবাদের মধ্যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার ৭৫০ টন, পটুয়াখালী জেলায় দুই লাখ দুই হাজার ৬১৩ হেক্টর জমিতে আবাদের মধ্যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৬৩ টন।

বরগুনা জেলায় এক লাখ এক হাজার ৩২ হেক্টর জমিতে আবাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার ৫২৫ টন। ভোলা জেলায় এক লাখ ৭৯ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার লাখ ৫১ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। এ ছাড়া বরিশাল মেট্রো এলাকায় ৭৩১ হেক্টর জমিতে এক হাজার ৭২৩ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

বরিশালের সদর উপজেলার বারৈজ্জার হাট এলাকার কৃষক মাহামুদ বয়াতি জানান, আগের বছরের তুলনায় এ বছর আমনের ফলন এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। তাঁরা এবার ছয় একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তেমন না থাকায় তাঁদের ফলন ভালোর দিকে। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনের বাম্পার ফলন আমরা আশা করছি। তবে বরাবরের মতো এবারেও ন্যায্য দাম নিয়ে সংশয় রয়েছে। ফলন বেশি হলে ধানের দাম কমে যায়।’

উজিরপুরে গুঠিয়ার পঞ্চগ্রাম এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, প্রতিবছরই সরকার কৃষকদের বাঁচানোর জন্য একটা দাম নির্ধারণ করে থাকে; কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে সেই দাম পাওয়া যায় না। আবার কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রিতে আগ্রহী নয়। কারণ সরকার যে নিয়মে ধান ক্রয় করে, সেই নিয়ম মেনে ধান সরকারকে দিতে গেলে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হয়।

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সরকারকে সরবাহ করা ধান যেভাবে শুকাতে হয়, ধান মাড়াই করে সেই পরিমাণ শুকাতে গেলে মণপ্রতি কমপক্ষে ১০ কেজি ঘাটতি হয়।

বানারীপাড়া উপজেলার রায়েরহাট এলাকার কৃষক সাহেব আলী বলেন, ‘গত বছরের থেকে সারসহ অন্য ধান উৎপাদন সামগ্রীর দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। গত বছরের মতো এবারে দাম নির্ধারণ করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তাই কৃষকদের কথা বিবেচনা করে ধান-চালের দাম নির্ধারণ করা উচিত।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক তুষার কান্তি সমদ্দার জানান, কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ বিভাগে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এবার শতভাগ অর্জিত হবে বলে আশা করছি। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এ বছর ধানের মাঠ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

তা ছাড়া ধানের রোগবালাই ও পোকার উপদ্রব প্রতিরোধে কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে সর্বদা ধারণা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকরা আমনের উফশী ব্রি-ধান ৫২ বেশি আবাদ করেছে।

মন্তব্য