kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

সুইস ব্যাংকে অর্থপাচার

জড়িতদের তালিকা ডিসেম্বরে

নিখিল ভদ্র   

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জড়িতদের তালিকা ডিসেম্বরে

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে টাকা পাচারকারী বাংলাদেশিদের বিষয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। সন্দেহভাজনদের তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো বেশি সক্রিয় হতে বলা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ডে ২৬১টি ব্যাংকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ জমা রাখা হয়। বাংলাদেশ থেকে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় পাঁচ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমার পরিমাণ ছিল প্রায় চার হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে ২০১৬ সালে জমার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বা ২০ শতাংশ বেড়েছে।

ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে অর্থ জমার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১২ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। আর ২০০৯ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৮১ কোটি টাকা, যা ৩৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এখন পাঁচ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা হয়েছে। আর এটাকে মানি লন্ডারিং হিসেবে দেখছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ দুটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে মিডিয়াতে এসেছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

একই বৈঠকে ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে যাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বা সেকেন্ড হোম তৈরি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল কাজ শুরু করেছে।’

ওই বৈঠকে অর্থ পাচার নিয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের ক্ষোভের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে কমিটি বৈঠকের কার্যবিবরণীতে।

কমিটির আরেক সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘বড় বড় ব্যক্তির রেফারেন্স থাকায় ব্যাংকের এমডি, জিএম বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কখনো কখনো স্নায়ুচাপে থাকেন। আবার সাধারণ ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংকের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে সময় শেষ করে ফেলে, কিন্তু সহযোগিতা পান না।’

কমিটির সদস্য নাজমুল হাসানের অভিমত, ‘আসলে ব্যাংক প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শুভংকরের ফাঁকি আছে। যে টাকা বিদেশে চলে গেছে, সেটা আদায় করা যাবে কি না বা রিকভারি করতে কত দিন লাগতে পারে সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত নয়। টেকনোলজির এই যুগে পৃথিবীর অন্য দেশে মানি লন্ডারিং ইস্যু সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এত সময় লাগার কারণ আমার বোধগম্য নয়।’

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, সংসদীয় কমিটি মনে করে, যে টাকাগুলো এখান থেকে গেছে, সেগুলো ফেরত আসা দরকার। তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে যেসব বাংলাদেশি অর্থ জমা রেখেছেন, সরকার চাইলেই তাঁদের পরিচয় জানতে পারছে না। কারণ সেখানকার আইন অনুযায়ী ব্যাংক গ্রাহকদের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা হয়। তিনি বলেন, সুইস ব্যাংকে অর্থ পাচারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলেছে, পত্রিকায় যতটা এসেছে ততটা অর্থ পাচার হয়নি। তবে যেটুকু হয়েছে তার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নানা আইনি বাধার কারণে তথ্য সংগ্রহে একটু সময় লাগছে। তিনি আরো বলেন, এটা স্পষ্টতই মানি লন্ডারিং। তবে ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলেছে, তদন্ত এখনো কমপ্লিট হয়নি। তারা অনেকটা এগিয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পৌঁছানো হবে। আর ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ করবে।

মন্তব্য