kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার পদ্মা সেতু প্রকল্পে

তলদেশের মাটি নরম হওয়ায় চার খুঁটিতে পাইল বাড়ছে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হ্যামার পদ্মা সেতু প্রকল্পে

সাড়ে তিন হাজার কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামারটি এখন মাওয়ায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতার হ্যামার এখন মাওয়ায়। গতকাল শুক্রবার এটি পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। এটি এখন ব্যবহার উপযোগী করার প্রস্তুতি চলছে। সাড়ে তিন হাজার কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামারটি জার্মানিতে তৈরি।

জানা গেছে, নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর জন্য অর্ডার দিয়ে হ্যামারটি তৈরি করা হয়েছে। এর আগে তিন হাজার কিলোজুল ক্ষমতার আরেকটি হ্যামার আনা হয়েছিল। তবে কারিগরি সমস্যার কারণে সেটি সচল করা যায়নি। তবে এবারের হ্যামারটি শিগগিরই পাইল ড্রাইভ শুরু করবে বলে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।

জার্মান থেকে নেদারল্যান্ডস হয়ে সমুদ্র পথে হ্যামারটি মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছে। পরে বিশেষ জাহাজে করে এটি আনা হয় মাওয়ায়। এদিকে দুই হাজার ৪০০ কিলোজুল এবং এক হাজার ৯০০ কিলোজুল ক্ষমতার দুটি হ্যামার এখন ২ ও ১৪ নম্বর খুঁটিতে পাইল ড্রাইভ করছে। এখন এই নতুন হ্যামার বহরে যোগ দেওয়ায় পাইল স্থাপনের গতি বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর চারটি খুঁটিতে একটি করে পাইল বাড়াতে হতে পারে। তাহলে ছয়টির স্থলে সাতটি করে পাইল স্থাপন করতে হবে। নদীর তলদেশের মাটি নরম থাকার কারণে মাওয়া প্রান্তের ৬, ৭, ৮ ও ১০ নম্বর খুঁটিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র গতকাল এই আভাস দিয়ে বলেছে, ডিসেম্বর মাসে চারটিসহ পদ্মা সেতুর বাকি ১৪টি খুঁটির ডিজাইন চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। পদ্মা নদীর স্রোত যেমন বৈচিত্র্যময়, ঠিক নদীর তলদেশেও রয়েছে নানা বৈচিত্র্যময় মাটির গঠন। তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এগিয়ে চলেছে পদ্মা সেতু নির্মাণযজ্ঞ।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, চারটি খুঁটির নিচের মাটির নরম অংশ নিয়ে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। সেগুলোর গভীরতা ১২৮ মিটারের পরিবর্তে ১৩৫ মিটার করতে গেলে পাইলের টিউব পরিবর্তন করতে হবে। বেশি ক্ষমতাধর হ্যামার প্রয়োজন। এসব বিবেচনায় গভীরতা বৃদ্ধির বিকল্প হিসেবে প্রতিটি খুঁটিতে ছয়টির পরিবর্তে সাতটি পাইল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটিতে তিনটি করে বটম পাইল করে রাখা হয়েছে প্রায় বছর দুই আগে। নতুন ডিজাইনে এই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এভাবেই বড় একটি চ্যালেঞ্জ সফলতায় রূপ নিচ্ছে।

দ্বিতলবিশিষ্ট পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ অর্থাৎ সংযোগ সেতু ধরলে সেতুটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়।

মন্তব্য