kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

৭৫ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই ওয়েবসাইট তৈরিতে ব্যর্থ

বিভ্রান্তিতে শিক্ষক-পরিচালনা কমিটি, মডেল সাইট তৈরির পরামর্শ

শরীফুল আলম সুমন   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গত ৩০ জুনের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ওয়েবসাইট তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে গত ২ জুন পরিপত্র জারি করেছিল মন্ত্রণালয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা (ডেডলাইন) শেষ হলেও অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেনি। ডেডলাইনের মধ্যে কতসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট তৈরি করেছে, সেই হিসাবও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। অথচ এই ওয়েবসাইটকে ঘিরে মন্ত্রণালয়ের রয়েছে নানা পরিকল্পনা।
রাজধানী ও এর বাইরের কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, কোনোমতে একটি ওয়েবসাইট হয়তো কম টাকায় তৈরি করা যায়, কিন্তু ভালো মানের ওয়েবসাইট করতে হলে বেশ টাকার প্রয়োজন। আর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে তাতে প্রতিদিনের তথ্য আপলোড করতে হলে আরো একজন অতিরিক্ত কর্মচারীর প্রয়োজন। কারণ অধিকাংশ স্কুলে কম্পিউটার থাকলেও তা রয়েছে নামমাত্র। আবার অনেক স্কুলেই বিদ্যুৎ নেই। সেখানে সোলার প্যানেল বসাতে আরো বেশি টাকা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিরও এ ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ নেই। কারণ অনেক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওয়েবসাইট কী সেটাই জানেন না। ফলে ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা যায়, ডেডলাইনের মধ্যে ২৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট তৈরি করতে পেরেছে। সে হিসাবে ব্যর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ। আগে থেকেই আরো প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ছিল। তবে সমস্যা হচ্ছে, ওয়েবসাইটের কনটেন্টগুলোর মেইন মেনু ও সাব-মেনু কিভাবে সাজাতে হবে এবং এসব বাংলায় না ইংরেজিতে হবে, কী কী টার্ম ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে তা বুঝছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়েরও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। আর এই ওয়েবসাইট তৈরির কাজে মাঠে অযোগ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয় থাকায় একেক প্রতিষ্ঠান একেক রকম ওয়েবসাইট তৈরি করছে। ফলে এগুলো এতটাই নিম্নমানের হচ্ছে যে পরবর্তী সময়ে তা ব্যবহার করাই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। আর অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-প্রধানের প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তাঁরা তা বুঝতেও পারছেন না।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রুহী রহমান (মাধ্যমিক-১) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যে যার পছন্দমতো ওয়েবসাইট করতে পারে। তবে কী কী তথ্য থাকতে হবে তা আমরা ঠিক করে দিয়েছি। বেসিক তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ-সাত হাজার টাকায়ই প্রথমে ওয়েবসাইট করুক। পরে প্রয়োজন হলে আপডেট করবে। আর যেকোনো ব্যাপারেই একটা ডেডলাইন থাকা উচিত। নইলে কাজটা এগোয় না। তাই আমরা ৩০ জুন ডেডলাইন ঠিক করেছিলাম। এর মধ্যে কেউ কেউ করেছে। তবে আমরা আরো কিছুদিন দেখব। এর মধ্যে সবাই ওয়েবসাইট তৈরি শেষ করতে না পারলে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’   
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নজরদারির আওতায় আনাই এই ওয়েবসাইট তৈরির প্রধান লক্ষ্য। কারণ এখন দূর-দূরান্তের কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানতে চাইলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা অফিসার হয়ে তথ্য জানতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়। অথচ ওয়েবসাইট থাকলে সেখানেই সব তথ্য থাকবে, মুহূর্তেই জেনে নেওয়া যাবে। এ ছাড়া শিক্ষা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) বছরে হাজারখানেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারে। সে হিসাবে এমপিওভুক্ত ২৬ হাজার প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতেই তাদের ২৫ বছর লেগে যাবে। একবার পরিদর্শন হলে পরবর্তী পরিদর্শনে যেতে হয় ২০ থেকে ২৫ বছর পর। তাই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট করলে ডিআইএর একটি সেন্ট্রাল ওয়েবসাইটের সঙ্গে তা যুক্ত থাকবে। ফলে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের নানা তথ্য ডিআইএর হাতে চলে আসবে। আর এতে নজরদারির আওতায় চলে আসবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
জানা যায়, ওয়েবসাইটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পরিচিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ডাটাবেইস, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের তথ্য, একাডেমিক ক্যালেন্ডার, বিভাগভিত্তিক ক্লাস রুটিন, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফল, ভর্তির তথ্য, ইংলিশ ফর টুডের লিসেনিং টেক্সট ও ফরম, নোটিশ, শিক্ষার্থী প্যানেল, শিক্ষক প্যানেল, অভিভাবক প্যানেল, ফটো গ্যালারি, লাইব্রেরির বিভাগভিত্তিক বইয়ের তালিকা, অভিযোগ কর্নারসহ বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশিত থাকতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর শুধু ওয়েবসাইট করে বসে থাকলেই হবে না, প্রতিদিন ক্লাস শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে শ্রেণি অনুসারে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির তথ্য নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখনো ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারিনি। এ জন্য আমরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোটেশন নিয়েছি। কেউ পাঁচ হাজার টাকায় করে দিতে চেয়েছে আবার কেউ চেয়েছে এক লাখ টাকা পর্যন্ত। এতে আমরা আরো দ্বিধায় পড়ে গেছি। অথচ উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি বুয়েটের মাধ্যমে একটি কমন ওয়েবসাইটের ডিজাইন করে এবং ন্যূনতম মূল্যে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আমাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করে তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়। এতে আমরা কম মূল্যে মানসম্পন্ন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারব।’

মন্তব্য