kalerkantho

কর্মক্ষেত্র নরক যে ধরনের বসে

   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্মক্ষেত্র নরক যে ধরনের বসে

কয়েক ধরনের বস আছেন, যাঁদের অনুপস্থিতি কর্মজীবনকে অনাবিল শান্তিতে ভরিয়ে দেয়। তাঁরা না থাকলে বরং কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়ে যায়। এমন বসের কথা বলা হচ্ছে, যাঁরা কর্মীর জীবনটাকে খুব সহজেই নরক যন্ত্রণাময় করে তুলতে পারেন। চিনে নিন এমন সাত ধরনের বস।

১. 'সুপারভাইজার' বস : এঁরা সুপারভাইজ করেন গুপ্তচরের মতো। এঁরাই সব কাজের প্রধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। সারা দিন ব্যস্ত থাকেন গুপ্তচরবৃত্তির কাজে। কর্মীরা কার সঙ্গে কথা বলছেন, কম্পিউটারে বসে কী করছেন কিংবা ওয়াশরুম থেকে কত সময় পর ফিরলেন তা গোপনে পর্যবেক্ষণ করেন। এমনকি তাঁরা কর্মীর অনুপস্থিতিতে তাঁর কক্ষ বা টেবিলে গোয়েন্দাগিরির সুযোগ ছাড়েন না।

২. সময় লুটেরা বস : বসদের সফলতা নির্ভর করে সময়মতো কর্মসূচি প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনার ওপর। এঁদের মধ্যে এমন কিছু বসের দেখা পাবেন যাঁরা নিজের সময় কাজে লাগাচ্ছেন অন্যের সময় নষ্টের মাধ্যমে। তিনিই হয়তো জরুরি কোনো কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবার তিনিই রুমে ডেকে নিয়ে অর্থহীন উপদেশ দিতে দিতে কয়েক কাপ কফি সাবাড় করেন। মূলত এ ধরনের বসের গসিপের সঙ্গী প্রয়োজন। সারা দিন গল্প করে প্রাণ জুড়ায় তাঁদের।

৩. মহাব্যস্ত বস : এ ধরনের বস নিজের অবস্থানটা ফুটিয়ে তুলতে বিরাট আয়োজন করেন। এঁদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মেলা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া। অনেক আগে থেকে বহু প্রচেষ্টার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার একটা দুর্লভ সুযোগ উঁকি দিতে পারে। কিন্তু ওই কক্ষের ভেতরে তিনি গতানুগতিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে কেবল নাক ডেকে চলেছেন। এমন বসের উদ্দেশ্য হলো, সবাইকে জানান দেওয়া যে তাঁর মতো ব্যস্ত মানুষ এ গ্রহে বিরল।

৪. বহু গুণে গুণান্বিত বস : একাধারে আইডিয়া বের করা, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা প্রয়োগের গুণ যাঁদের মধ্যে রয়েছে তাঁদেরই খুঁজছে সব প্রতিষ্ঠান। এমন বসের দেখা মিলতে পারে। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন তাঁরা নিজের অবস্থানে অনড় ও একগুঁয়ের মতো বসে থাকেন। প্রতিষ্ঠানে সবার চেয়ে মেধাবী মানুষটিকে সবাই চিনে নিতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের বসের জোর দাবি যে তিনিই সেই ব্যক্তি। কাজকর্মে সে ছাপ না থাকলেও কিছু যায় আসে না। আর তা প্রমাণে সবাইকে হেয় করে তুলে ধরা তাঁর একমাত্র অবলম্ব্বন। তাঁর সব মেধা এ কাজেই ব্যয় হয়।

৫. নোংরা আচরণের বস : এঁদের আচার-ব্যবহারই এমনতর যে আপনি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবেন না। একজন কর্মী কোনোভাবেই তাঁর সহকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণের কথা চিন্তা করতে পারেন না। এ ধরনের বসকে চুপ করাতে হলে সরাসরি তাঁদের পর্যায়ে নেমে যেতে হয়, যা সাধারণত কারো পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। অফিসের পরিবেশটা নরক যন্ত্রণার চূড়ান্তে নিতে পারেন তাঁরা। সাধারণত হিংসা বা অন্যের সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁরা এসব করেন।

৬. 'রানওয়ে' বস : এঁরা সব সময় দৌড়াদৌড়ি করেন। কখন দৌড়ে আপনার কাছে চলে আসবেন তা ঘুণাক্ষরেও টের পাবেন না। এঁদের দৌড়ঝাঁপে অস্থির থাকতে হয়। এঁরা একসময় অফিস থেকে দৌড়ে বের হয়ে যান। কিন্তু হঠাৎ করেই আবার দৌড়ে ফিরে আসেন। এঁদের কাছে কোনো সমস্যা নিয়ে যাওয়া যায় না। কারণ এঁরা সব সময় দৌড়ের ওপরই থাকেন।

৭. দোষ শনাক্তকারী বস : এঁদের একমাত্র কাজ কর্মীদের ভুলত্রুটি খুঁজে বের করা। তাঁর আঙুল সব সময় কারো না কারো দিকে নির্দেশ করে। এর অর্থ, ওই কর্মীর দোষ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এ কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে গিয়ে তাঁরা বহু কাজে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেন। কর্মীদের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। কারো সঙ্গে ব্যক্তিগত মতের অমিল থাকলে তাঁর ত্রুটি-বিচ্যুতি বেশি বেশি ফুটে ওঠে বসের চোখে। অন্য কোনো কাজে খুব কম ব্যস্তই দেখা যায় তাঁকে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্ব্বনে সাকিব সিকান্দার

মন্তব্য