kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

সেতু নির্মাণ নিয়ে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতু নির্মাণ নিয়ে দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল শুরু হওয়া 'অ্যাডভান্সেস ইন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং-৩' বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

'একসময় ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণ আমাদের কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতো ছিল। কিন্তু এখন আমরা নিজেরাই এসব নির্মাণ করছি। ঢাকায় মেট্রো রেলের অবকাঠামো নির্মাণকাজও শিগগিরই শুরু হবে।' এসব কথা বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, 'পদ্মা সেতু আমাদের অন্যতম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। এটা আমরা নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করছি।'

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে 'অ্যাডভান্সেস ইন ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং-৩' শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে এই দুই বক্তা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ গ্রুপ অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ব্রিজ অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং (আইএবিএসই) ও জাপান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের (জেএসসিই) যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে অংশ নেয় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন বসুন্ধরা সিমেন্ট। দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ এবং নির্মাণশিল্পের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, সরকার সম্প্রতি ঢাকার উত্তরা থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই রাজধানীতে মেট্রো রেলের অবকাঠামো নির্মাণের কাজও শুরু হবে। এসব উদ্যোগের ফলে যাতায়াতে অনেক দ্রুততা আসবে। পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। সরকার মনে করে, এসব কাজ শেষে ঢাকার অসহনীয় যানজট অনেকটাই কমে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, 'জাপান আমাদের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে সব সময় পাশে থাকে। এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।' ১৯৭১ সালে দেশের অনেক সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, 'অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশে ছোট-বড় প্রায় ৯০০ নদী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। এসব নদীর ওপর অসংখ্য সেতু নির্মিত হচ্ছে। সেগুলোকেও মজবুত করে তৈরি করতে হবে। নকশা ও নির্মাণসংক্রান্ত বিষয় মাথায় নিয়ে ১০০ বছরের জন্য সেতু নির্মাণ করা অনেকটা চ্যালেঞ্জ। তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে, যা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে। আমরা পদ্মা সেতুর স্থায়িত্বের জন্য ১৫০ মিটার পাইলিং করেছি। এটা পৃথিবীর বুকে অন্যতম নজির। এ সেতুর সংযোগ সড়কের কাজও প্রায় শেষের দিকে।' তিনি বলেন, 'যেহেতু আমাদের দেশ জনসংখ্যাবহুল, তাই অবকাঠামো করার ক্ষেত্রে ভূমি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।'

জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাইকার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি কেই তয়ামো বলেন, 'বাংলাদেশে আমরা ছোট-বড় অসংখ্য সেতু নির্মাণ করেছি। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশেও জাইকা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু উন্নয়নেই নয়, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের ক্ষেত্রেও জাইকা কাজ করছে।'

সম্মেলন উদ্বোধন শেষে বসুন্ধরা সিমেন্টের স্টলও ঘুরে দেখেন অতিথিরা। স্টলে উপস্থিত বসুন্ধরা সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) খন্দকার কিংশুক হোসেন বলেন, 'ক্রমাগত প্রযুক্তি উন্নয়ন ও গুণগত মানের দিকে লক্ষ রেখে এগিয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা সিমেন্ট। এর ফলে দেশের বড় বড় প্রকল্প ও পাওয়ার প্লান্টগুলোতে প্রতিনিয়তই কদর বাড়ছে বসুন্ধরা সিমেন্টের। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি করা হচ্ছে বসুন্ধরা সিমেন্ট।' সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আইএবিএসইর সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম সাইফুল আমিন, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সভাপতি ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া প্রমুখ।

মন্তব্য