kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ঢাকা উত্তরে হচ্ছে ৭০ বর্জ্য স্টেশন

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা উত্তরে হচ্ছে ৭০ বর্জ্য স্টেশন

রাজধানীর প্রধান সড়ক কিংবা অলিগলির কোথাও না কোথাও ময়লার স্তূপ চোখে পড়বেই। আর তখন নাক-মুখ চেপে জায়গাটি পার হতে হয়। এটাও অন্যতম নাগরিক ভোগান্তি এবং প্রতিদিনই কাউকে না কাউকে তা পোহাতে হয়। ময়লার এ উৎকট ঝামেলা থেকে নগরবাসীকে রেহাই দিতে উদ্যোগী হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ইতিমধ্যে ৭০টি স্থান চিহ্নিত করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ। সেসব স্থানে নির্মাণ করা হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন। এ জন্য সরকারের ১৭টি সংস্থার কাছে জমি চেয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক।

ডিএনসিসির বিভিন্ন রাস্তায় প্রায় তিন শ খোলা কনটেইনার রয়েছে। এগুলোতে সারাক্ষণ ময়লা নাড়াচাড়ার ফলে পথচারীদের নাক চেপে চলাফেরা করতে হয়। আর একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে থাকা পানিতে ভাসতে থাকে ময়লা। নির্বাচিত হওয়ার পর আনিসুল হক এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন একাধিকবার।

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'রাস্তা থেকে ময়লার কনটেইনার সরানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। ডিএনসিসি এলাকায় ৭০টি স্থান নির্ধারণ করেছি আমরা, যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্টেশন নির্মাণ করা হবে। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত।'

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, মেয়র আনিসুল হক ৭০টি স্থানে জমি ব্যবহারের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, ডেসকো, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা ওয়াসা, ওয়াকফ এস্টেট, সিভিল এভিয়েশন, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, ঢাকা সেনানিবাস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, লিবিয়া দূতাবাস, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মালিকানাধীন জমিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন নির্মাণ করার সুপারিশ এসেছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছ থেকে।

ডিএনসিসির তথ্য মতে, পুরো রাজধানীতে বাসাবাড়ি থেকে দিনে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয়। আর হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় এক হাজার ৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কেবল রামপুরা ব্রিজ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তার চারটি স্থানে ময়লার কনটেইনার রয়েছে। বাড্ডা-নতুন বাজার অংশের যেখানে ময়লার স্তূপ করা হয়েছে সেখানকার অবস্থা খুবই করুণ। বছরের পর বছর একই অবস্থায় রয়েছে এ অংশটি। দুর্গন্ধে পথচারীদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়, যানের আরোহীদেরও একই অবস্থা দাঁড়ায়। এগুলো সরিয়ে কুড়িল বিশ্বরোড রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় নেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে।

মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের আনসার ক্যাম্পসংলগ্ন সড়কেও একটি খোলা ট্রেইলারে কয়েক বছর ধরে ময়লা রাখা হচ্ছে। এ ভাগাড়ের উল্টোপাশেই ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিদিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের দুর্গন্ধময় পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এটা সরিয়ে ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে গণপূর্ত অধিদপ্তরের খালি জায়গায় নিয়ে সেখানে স্থায়ী স্টেশন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বরে ফলপট্টিতে খোলা অবস্থায় রয়েছে ময়লার বড় বড় কনটেইনার। সেখানে রাত-দিন ময়লা ওঠানো-নামানোর কাজ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ময়লা নাড়াচাড়ার ফলে পথচারী, দোকানদার-সবাইকে ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে। এসব কনটেইনার ১০ নম্বর গোলচক্করের দক্ষিণ বাউন্ডারি রোডের উত্তর কোনায় যাত্রীছাউনির পেছনে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের জমিতে বর্জ্য স্টেশন করে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে।

রামপুরা ব্রিজ থেকে বনশ্রী আবাসিক এলাকায় ঢোকার রাস্তার অনেকটা জায়গাজুড়ে ময়লা রাখা হয়। ফলে ওই সড়কে সব সময় যানজট লেগে থাকে। আর বসে বসে দুর্গন্ধ সহ্য করতে হয় যাত্রীদের। স্থানীয় কাউন্সিলরের সুপারিশে বনশ্রী খালপাড় ওয়াসা পাম্পের পূর্বপাশে খালি জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর, কালশী নতুন রাস্তা, মিরপুর-১২ নম্বর, পূর্ব বাইশটেকি, রূপনগরের শিয়ালবাড়ী, গাবতলী বিআরটিসি ডিপোর পেছনে, কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড, পশ্চিম কাফরুল, জোয়ার সাহারা, খিলক্ষেত রেলগেট, মহাখালী, মেরুল বাড্ডা, খিলগাঁও তালতলা, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর টাউন হল, লালমাটিয়া, নয়াটোলা পার্কসংলগ্ন স্থান, মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় প্রভৃতি স্থানে নির্মিত হবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশন।

ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল হক বলেন, 'আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছি। এ পদক্ষেপের সুফল আগামী জানুয়ারি নাগাদ নগরবাসী পেতে শুরু করবে। আমরা যেভাবেই হোক খোলা জায়গা অর্থাৎ রাস্তায় থাকা ময়লা সরিয়ে ফেলব।'

মন্তব্য