kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

বরগুনায় সেই নির্যাতিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

স্ত্রীকে চাকরিচ্যুত করতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বরগুনা প্রতিনিধি   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বরগুনার তালতলীতে নির্যাতনের শিকার অবসরপ্রাপ্ত সেই প্রধান শিক্ষককে নানাভাবে হয়রানি করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 'নির্যাতনকারী' উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি মনিরুজ্জানান মিন্টুর 'দালাল বাহিনী' দিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে উল্টো মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক সুন্দর আলীর স্ত্রীর চাকরি হারানোর ষড়যন্ত্রও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বরগুনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ওই শিক্ষক।

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দর আলী বলেন, 'তালতলীর উপজেলা চেয়ারম্যান মিন্টুর ক্ষমতা ও থানা পুলিশের অসহযোগিতার ভয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েও মামলা করার সাহস পাইনি। তবে সম্প্রতি উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করি। এর জের ধরে আমাকে একের পর এক হুমকি দিয়ে আসছে মিন্টু।'

সুন্দর আলী আরো বলেন, 'নূরু মিয়া নামের এক লোককে দিয়ে গত ১৯ জুলাই আমতলীর আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে মিন্টু। আমার স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম বড়বগী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা। তাকে বদলিসহ চাকরি খোয়াতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে মিন্টু ও তার লোকজন। মিন্টুর একটি দালাল বাহিনী রয়েছে। তারা নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।'

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই বিকেলে বরগুনার তালতলী বাজারের শত শত লোকের সামনে পেটাতে পেটাতে টেনে-হিঁচড়ে নিজ কার্যালয়ে আটকে সুন্দর আলীকে নির্যাতন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু ও তাঁর সহযোগীরা। এ ঘটনায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইসতিয়াক আহম্মেদ বাদী হয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত ৩ আগস্ট এক আদেশে বরগুনার পুলিশ সুপার ও তালতলী থানার ওসিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিক্ষক নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

মন্তব্য