kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

মুক্তাগাছায় পুরস্কার পাওয়া খামার লুট করল সন্ত্রাসীরা

হামলায় তিনজন আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পদুরবাড়ী এলাকায় মীর সায়েন্টিফিক ফিশারি অ্যান্ড হ্যাচারিতে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ লুট করেছে। হামলায় খামারের পরিচালক ও তাঁর বৃদ্ধ বাবাসহ তিনজন আহত হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা মুক্তাগাছা থানায় গেলে পুলিশ তাদের মামলা নেয়নি। উল্টো ভুক্তভোগীদের থানা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওসি বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এ হামলার ঘটে।

মীর সায়েন্টিফিক ফিশারি অ্যান্ড হ্যাচারির পরিচালক মীর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল আউয়াল জানান, তাঁরা এলাকায় ১৯৮৮ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে মাছের খামার ও ব্যবসা করে আসছেন। খামারটি বিরল ও বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, উৎপাদন ও সম্প্রসারণে স্থানীয় এবং জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। এমনকি এ খামারটি রাষ্ট্রপতির পদকও অর্জন করেছে। দেশের মৎস্য চাষেও খামারটির প্রশংসনীয় ভূমিকা আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী তাদের নানানভাবে হেনস্তা করে আসছে।

খামার পরিচালক অভিযোগ করেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কারণে সম্প্রতি তাঁদের খামার পরিচালনা করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে সন্ত্রাসীরা হ্যাচারি কার্যালয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে খামারের পরিচালককে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসে। মূলত মাছের পোনা-রেণুর বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এ খামারটির প্রতি লোভের নজর পড়ার কারণেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

জানা গেছে, সন্ত্রাসীদের হুমকি এবং তাদের দ্বারা যেকোনো সময় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় গত ১৬ আগস্ট খামারটির পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আউয়াল মুক্তাগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু এ জিডির বিপরীতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। যে কারণে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা উৎসাহিত হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কয়েকটি পুকুরে প্রকাশ্যে জাল ফেলে প্রায় ছয় লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে খামার পরিচালক আউয়াল, তাঁর বৃদ্ধ বাবা মীর আমজাদ আলী ও খামারের ম্যানেজার আব্দুস সামাদ আহত হন। সন্ত্রাসীরা ম্যানেজারের ও পরিচালকের মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়ে যায়। তারা সন্ধ্যার আগেই পুরো খামার খালি করে দিতে হুমকি দিয়ে যায় এবং খামারে রাতে কর্মরত কর্মচারীদের কাজ না করতে শাসিয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পদুরবাড়ী এলাকার রফিকুল ইসলাম বাহাদুর, ফারুক হোসেন ফারুক, ইসমাইল হোসেন, মামুনুর রশীদ মামুন, সাব্বির প্রমুখ এ হামলার ঘটনায় জড়িত। তাদের হামলায় আহত খামারের পরিচালক আউয়াল ও তাঁর বৃদ্ধ বাবা আমজাদ মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই থানায় বিষয়টি জানালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে ওসি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং থানা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। এখন খামারের মালিক, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা চরম আতঙ্কে দিন যাপন করছে। যেকোনো সময় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা আবার হামলা চালিয়ে খামারের মালিক ও অন্যদের বড় কোনো ক্ষতি করে ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য