kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

মাধবপুরে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার

নাশকতার আশঙ্কা বিজিবির

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ধর্মঘর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত হিন্দু জমিদারবাড়ি থেকে তিনটি পাইপগান, ১৭টি পেট্রলবোমা ও ১৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে বিজিবি। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে ওই বাড়ির ছাদ থেকে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করা হয়। নাশকতার উদ্দেশ্যে উগ্রপন্থী অথবা জঙ্গিরা এসব অস্ত্র মজুদ করে রেখেছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিজিবি।

লে. কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বাড়িটির ছাদের বিভিন্ন স্থানে পেট্রলবোমা, ককটেল ও পাইপগান স্তূপ করে রাখা ছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বোমা সম্পূর্ণ তাজা। পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে যারা রয়েছে তারা বলেছে, ঈদের সময় ঢাকা থেকে কিছু লোক তক্ষক খুঁজতে এখানে এসেছিল। তারাই এসব অস্ত্র মজুদ রাখতে পারে।

লে. কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন আরো জানান, এ ব্যাপারে বিজিবি আরো বিস্তারিত তদন্ত করছে। উদ্ধার করা ১৭টি পেট্রলবোমা, ১৫টি ককটেল ও তিনটি পাইপগান মাধবপুর থানায় জমা দিয়ে জিডি করা হয়েছে। কাশিমনগর ফাঁড়ির এসআই আনোয়ার হোসেন ও বিজিবি সদস্যরা সকাল ১০টার দিকে ধর্মঘর বিজিবি ক্যাম্পে ১৫টি ককটেল নিষ্ক্রিয় করেছেন।

স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে ভরে থাকায় সাধারণত কোনো লোক ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া করে না। প্রায় ৫০ বছর আগে মনোদেব মজুমদার নামে এক জমিদার এ বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। বাড়িটি মন্দারবাড়ি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে সীমান্তবর্তী এলাকার অপরাধীদের এ বাড়িতে আসা-যাওয়া ছিল।

স্থানীয়রা জানান, কারা কী উদ্দেশ্যে পেট্রলবোমা, ককটেল ও পাইপগান মজুদ করেছিল এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। গত বছর ধর্মঘর দিঘি লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলি ও ককটেল হামলায় সোহেল নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছিল। এ ঘটনায় ধর্মঘর নিজনগর গ্রামের সোহেলের বাবা আব্দুর রউফ বাদী হয়ে ডাকাত জসিম মিয়াসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে এক দফা অভিযোগপত্র দিলেও বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ৯ মাস আগে এ হত্যা মামলার আসামি জসিমকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ির কাছ থেকে ককটেল উদ্ধার করে।

নিহত কলেজছাত্র সোহেলের বাবা গত ১৯ আগস্ট মাধবপুর থানায় এক লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১৮ আগস্ট রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে চার-পাঁচজন মুখোশ পরা অস্ত্রধারী লোক তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে অস্ত্র ঠেকিয়ে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেয়। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে তিনি অভিযোগে জানান।

মন্তব্য