kalerkantho

সোমবার। ২৭ মে ২০১৯। ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২১ রমজান ১৪৪০

গৌরনদী-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক

এক বছরও টিকল না ৩৫ কোটি টাকার কাজ

বরিশাল অফিস   

২২ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এক বছরও টিকল না ৩৫ কোটি টাকার কাজ

সড়কের কোথাও উঠে গেছে পিচ ঢালাই। স্থানে স্থানে ছোট-বড় গর্ত। গাড়ি চলছে হেলেদুলে। এই দৃশ্য গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, কংক্রিট ম্যাকাডাম ও রোলার ব্যবহার না করা এবং সড়কের দুই পাশে ঢাল না দেওয়ার কারণে বছর না ঘুরতেই সড়কের এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়কে উন্নীত এ সড়কটির নির্মাণকাজ এক বছরও না টেকার কারণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দুষছে। নির্মাণকাজের তদারককারী প্রকৌশলী দায় চাপাচ্ছেন সেতু বিভাগের ওপর।

বরিশাল সওজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গৌরনদী-আগৈলঝাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কটি মহাসড়কে উন্নীত করা হয়। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এলে রাজনৈতিক প্রকল্প দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ নেওয়া হয় অন্য প্রকল্পে। ফলে মহাসড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার এসে ২০০৯ সালে মহাসড়ক নির্মাণের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে।

সড়কটি দুটি অংশে ভাগ করে দুজন ঠিকাদারকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্টসহ গৌরনদী থেকে আগৈলঝাড়া সদর পর্যন্ত ৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার মহাসড়কের নির্মাণ কার্যাদেশ দেওয়া হয় বরিশালের ওটিবিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

আর ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি কালভার্ট ও একটি ব্রিজসহ আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে পয়সারহাট পর্যন্ত ৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার মহাসড়কের অন্য অংশের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ফরিদপুরের সেগুইন ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। উভয় অংশে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২৬ ফুট প্রস্থ সড়ক, উভয় পাশে তিন ফুট করে ফুটপাত, সড়কে আটটি কালভার্ট ও একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ওই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দুই দফায় সময় বাড়ালেও এক বছর আগে মহাসড়কের কাজ শেষ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, খুলনা, ঢাকা, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় চলাচলকারী বেশ কিছু দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস এবং মালবাহী ট্রাকসহ স্থানীয় অনেক যানবাহন প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বেহাল এই সড়ক পার হওয়ার সময় যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হয়।

সংস্কার না করায় সড়কের আগৈলঝাড়া সদর থেকে পয়সারহাট অংশের প্রায় ১০ কিলোমিটর সড়কের অবস্থা দিনের পর দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে বেশ কিছু স্থানে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো ডুবে গেলে এর গভীরতা বোঝার উপায় থাকে না। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে এই সড়ক দিয়ে। আগৈলঝাড়া কলেজ থেকে ফুলশ্রী পুরাতন ডাকবাংলো হয়ে কান্দিরপাড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কের অবস্থা ভয়ংকর। ছোট-বড় এক হাজারের বেশি গর্ত রয়েছে এই অংশে। সওজ বিভাগ কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে যানবাহন চলাচল উপযোগী রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু তা বেশি দিন টিকছে না।

অগৈলঝাড়ার গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় কংক্রিট ম্যাকাডাম আর রোলার ব্যবহার না করার ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কংক্রিট ম্যাকাডাম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় রোলার দেওয়া হলে রাস্তার আরো কয়েক বছরের স্থায়িত্ব বাড়ে। সড়কের দুই পাশ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় সুকেন বড়াল বলেন, সড়ক থেকে পনি নেমে যাওয়ার জন্য রাস্তার দুই পাশে ঢাল দেওয়া হয়। এ মহাসড়কে কোনো ঢাল দেওয়া হয়নি। এমনকি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বছর না ঘুরতেই এ অবস্থা হয়েছে। রাস্তার মধ্যে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ার কারণে কয়েক দিন যানবাহন চলাচল বন্ধও ছিল। সওজ জোড়াতালি দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে সড়কটির নির্মাণকাজ তদারককারী ও সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আ. মোতালেব মিয়া বলেন, সড়কের মধ্যে পানি জমে থাকার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে পিচ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। নির্মাণকাজের ত্রুটির ব্যাপারে তিনি বলেন, সড়কটিতে অনেকগুলো ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে, যা আগে নির্মাণ করে পরে সড়কের কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিজ ও কালভার্টগুলো সেতু বিভাগের অধীনে হওয়ায় এবং তা আগেভাগে সম্পন্ন হওয়ায় নির্মাণের সময় ভারী রোলার নেওয়া যায়নি। ফলে ছোট রোলার দিয়ে কাজ সারতে হয়।

সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ শাহেদ বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করা হয়েছে। কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় জমানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে। যানবাহন চলাচল উপযোগী করে তোলার জন্য সওজ বিভাগ থেকে জরুরি ভিত্তিত সড়কটি সংস্কার করে দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য