kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

রূপনগরে পাওয়া লাশটি নিখোঁজ ছাত্রদলকর্মীর

শরীরে আটটি গুলির চিহ্ন রয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর রূপনগর থানার অধীন বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে উদ্ধার করা লাশটি ছাত্রদলকর্মী আরিফুল ইসলাম মুকুলের। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন এক স্বজন। গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকা সদরঘাট থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, একটি লঞ্চ থেকে ডিবি পরিচয়ের একদল লোক তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তবে মুকুলকে ধরে নেওয়ার ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।নিহত আরিফুল ইসলাম মুকুল (২১) জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত একটি বেসরকারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ইশানপুর গ্রামে তাঁর বাড়ি। তিনি ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

মুকুলের মামা তৌহিদুল ইসলাম গতকাল সকালে হাসপাতাল মর্গে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, মুকুল ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য সদরঘাটে যান। সে সময় তাঁর সঙ্গে এক বন্ধুও ছিলেন। তাঁরা এমভি কর্ণফুলী-৪ লঞ্চে ওঠেন। লঞ্চটি ছাড়ার আগ মুহূর্তে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে চার-পাঁচ ব্যক্তি মুকুলকে আটক করে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মর্গ সূত্রে জানা যায়, মুকুলের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আটটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।

মুকুলের বাবা মোস্তফা কামাল চরফ্যাশনের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি দাবি করেন, মুকুল ঢাকায় পূর্ব রাজাবাজারে একটি মেসে থাকতেন। তাঁর ছেলে বিএনপির কর্মী না হলেও সমর্থক ছিলেন। ছাত্রদল করতেন বলেই গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে তাঁর ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে।

মুকুলের এক বন্ধু জানান, মুকুলকে ধরে নেওয়ার আগে তাঁর মেসে অভিযান চালিয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ। সেখানে মুকুলকে না পেয়ে অন্য কয়েক ছাত্রকে ধরে নিয়ে যায় তারা। পরে মেসে ফিরলে বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়।

গত ৩০ জানুয়ারি সকালে রূপনগর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ মর্গে পাঠায়। এর পর থেকে লাশটি মর্গে পড়ে ছিল। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মুকুলকে পায়নি। অবশেষে গতকাল তাঁর মামা তৌহিদুল ইসলাম মর্গে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন।

লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রূপনগর থানার পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করলেও আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রূপনগর থানার এসআই ফিরোজ আলম বলেন, নিকটাত্মীয়র কাছে লাশটি হস্তান্তর করা হয়েছে। থানার ওসি শামীম সিকদার বলেন, মুকুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলেই প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা