kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

খালেদাকে গ্রেপ্তার ও বিএনপির দুই নেতার বিচার দাবি

বরাদ্দবঞ্চিত নারী সদস্যদের ক্ষোভ সংসদে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে তাঁরা এই দাবি জানান। এই আলোচনায় অংশ নিতে ফ্লোর চেয়ে না পাওয়ায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহ্জীব আলম সিদ্দিকী।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে চলা সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন ‘১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই সরকারের বিদায়’ মন্তব্য করায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ‘খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় আদালত কেন সুয়োমটো দেননি’ বক্তব্যের জন্য দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার দাবি করেন। এ সময় আরো বক্তব্য দেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, আব্দুর রহমান, আওয়ামী লীগের সাবিনা ইয়াসমিন তুহিন এবং স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। এ সময় ফ্লোর চেয়ে না পেয়ে ‘আমি ওয়াকআউট করলাম’ বলে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান তাহ্জীব আলম সিদ্দিকী। অবশ্য কিছুক্ষণ পর আবার তিনি অধিবেশন কক্ষে ফিরে যান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা চাই না তাঁর দেহে পোড়া দাগ লাগুক।’ এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে আঘাত করা হলে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নেওয়ার দাবি : পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে দাহ্য পদার্থের কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের জাপাদলীয় সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি ৭১-এ আনা এক নোটিশে তিনি এ দাবি জানান। নোটিশের ওপর দেওয়া সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, কেমিক্যাল কারখানা সরিয়ে নিতে ঢাকা থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে কেরানীগঞ্জের সোনাকান্দায় কেমিক্যালপল্লী স্থাপনে ২০ একর জমি প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
বরাদ্দবঞ্চিত নারী সদস্যদের ক্ষোভ সংসদে
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি অর্থবছরে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু নির্বাচিত না হওয়ায় এই বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত থাকেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য বেগম নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরী। এর সঙ্গে যোগ দেন সরকারদলীয় নারী সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন।
নারী এমপিদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের অনুকূলে এ বরাদ্দ প্রদান করা হয় না। তাই আগামী অর্থবছরেও নারী এমপিদের বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি এ কারণে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যরা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন। তবে আগামীতে বরাদ্দ প্রদান করা হবে।’
যে-ই দায়িত্বে আসে সে-ই লুটপাট করে : স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন না হওয়ায় নগরবাসী নানা সমস্যায় ভুগছে। সিটি করপোরেশনের জায়গা লিজ দেওয়া হচ্ছে। যাকে ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সে-ই লুটপাট করছে। এক সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন না হওয়ায় এবং মেয়র না থাকায় মানুষ নানা সমস্যায় ভুগছে। নগরীর কোথাও কোনো ঝগড়াঝাটি হলেই থানায় যেতে হয়। থানায় গেলেই পুলিশ মামলা করতে বলে। এসব মামলা নিয়ে নগরবাসী ঝামেলায় আছে। তা ছাড়া নগরীর রাস্তাঘাটও ভালো নয়। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়া হবে কি না জানতে চান তিনি।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আইনি জটিলতা থাকার কারণেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইনি জটিলতা কাটলেই নির্বাচন হবে। তবে রাস্তাঘাটের সমস্যা সমাধান করা হবে।
ডেসটিনির টাকা ফেরত পাওয়া যাবে : জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেসটিনিসহ সমবায় অধিদপ্তরে অনুমোদিত প্রায় ৩০টি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ক্ষুদ্র কর্মসূচির মাধ্যমে সদস্য ও জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সমবায়ের বদনাম করেছে। শুধু ডেসটিনিই প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তবে জনগণের আত্মসাৎকৃত অর্থ কোথাও যায়নি। দায়েরকৃত মামলা নিষ্পত্তি হলে এসব কম্পানির টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণও একদিন না একদিন হয়তো টাকাও ফেরত পাবে। কারণ ডেসটিনির টাকা ও সম্পদ সরকারের নখদর্পণে রয়েছে।

মন্তব্য