• ই-পেপার

বিদেশের শ্রমবাজার হারানোর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : সংসদে নিলোফার চৌধুরী

ফার্মগেট থেকে বৃদ্ধ বাবা নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে জবি শিক্ষার্থীর আবেদন

জবি প্রতিনিধি
ফার্মগেট থেকে বৃদ্ধ বাবা নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে জবি শিক্ষার্থীর আবেদন
মোবারক হোসেন ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার পশ্চিম তেজতুরী বাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মোবারক হোসেন (৬৯) নামে এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত তিন দিন ধরে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, বয়সজনিত কারণে মোবারক হোসেনের মস্তিষ্কে কিছু জটিলতা রয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন। তিনি নিয়মিত নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যেতেন এবং সবসময় সঙ্গে মোবাইল ফোন রাখতেন। তবে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল হালকা লেমন রঙের পাঞ্জাবি ও কালো জুতা। তিনি মাঝারি উচ্চতার, স্বাস্থ্যবান গড়নের এবং মুখে সাদা দাড়ি রয়েছে এবং মুখে অল্পসংখ্যক দাঁত রয়েছে। 

নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পেলে পরিবারের সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তৈমুর খান মবিনের সঙ্গে ০১৭৩৮-৪৮২৩৭১ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়।

সংসদে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

দেশে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ

দেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটরের বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে বলে সংসদে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর সেবা দিচ্ছে। এগুলো হলো, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।

ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের দ্রুত ও সহজ সেবা দিতে ‘আমার ডাক’ অ্যাপভিত্তিক একটি সমন্বিত সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পুরো ডাকসেবা কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা শহরে ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্থাপন করা হবে ‘স্মার্ট পোস্ট বক্স’। একই সঙ্গে ডাক অধিদপ্তরের জন্য ‘ডাক কমার্স’ নামে একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যা ডাকসেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ দিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এগুলো হলো ‘মেইল প্রসেসিং এবং লজিস্টিক সার্ভিস টেকসই ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প’ এবং ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাক সেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ প্রকল্প’। এসব প্রকল্পের আওতায় দেশের সব ডাকঘরে ব্যবহৃত ডোমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার উন্নত করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডাকপণ্যের ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাকিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জাতীয় ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে এক হাজার আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েটকে ইনফরমেশন টেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য বিশ্বের ১৩টি দেশের আইসিটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারের চাহিদা পূরণে আরো ৫ হাজার ২০ জন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালিটিকস এবং সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা হবে। একই সঙ্গে ৭০০ নারীকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং সরকারি সেবার অটোমেশন, এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি সেবাও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব হবে।

পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে : অর্থমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দেশীয় মূলধন সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ জুন) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

আরো পড়ুন
১৬ হাজার ইয়াবার চালানসহ ‘গডফাদার’ বাবু আটক

১৬ হাজার ইয়াবার চালানসহ ‘গডফাদার’ বাবু আটক

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর কার্যকর অবদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বীকার করেন যে বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজার দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। 

বাজারের বিকাশ ও সম্প্রসারণে সহায়ক বেশ কয়েকটি আর্থিক পণ্য এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চলমান উদ্যোগের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বাজার তদারকি ও কার্যকারিতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিশনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায়।

আরো পড়ুন
চবির উপ-উপাচার্য হলেন ড. সফিকুল ও আল আমীন

চবির উপ-উপাচার্য হলেন ড. সফিকুল ও আল আমীন

 

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে আগামী দিনে পুঁজিবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণের সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তরের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পুঁজিবাজারকে একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য অর্থায়নের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বদলি আদেশের পাঁচ মাস পরও পদে বহাল, যা বলছে মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
বদলি আদেশের পাঁচ মাস পরও পদে বহাল, যা বলছে মন্ত্রণালয়

কৃষি মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বদলির আদেশ দীর্ঘ সময়েও বাস্তবায়িত না হওয়ায় একজন কর্মকর্তার নতুন কর্মস্থলে যোগদান অনিশ্চয়তায় পড়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আদেশ অনুযায়ী একজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হলেও তিনি এখনো পূর্বের পদে বহাল থাকায় তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পদায়ন পাওয়া আরেক কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্প্রসারণ-১ শাখা থেকে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তার বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত উপপরিচালক (ফুল ও ফল) পদে কর্মরত মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) পদে এবং ওই পদে কর্মরত বনি আমিন খানকে অতিরিক্ত উপপরিচালক (ফুল ও ফল) পদে বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরো উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে আদেশ জারির পরও বনি আমিন খান এখনো আগের দায়িত্বেই বহাল রয়েছেন।  ফলে বদলিকৃত পদে মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদের যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, আমার বদলির আদেশ জারি হলেও কিন্তু যেখানে যোগদান করব সেখানে কর্মকর্তা এখনো স্বপদে বহাল। তাই যোগদান করতে পারছি না। তবে বনি আমিন খানের মোবাইলে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি বদলির আদেশ কার্যকর না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একজন কর্মকর্তার পদায়ন কাগজে-কলমে হলেও বাস্তবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে না পারায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও বদলি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম জানান, বনি আমিন খান যেহেতু বদলি হয়েছেন এ কারণে তার যোগদান করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা করেননি। এতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার থাকলে তা মন্ত্রণালয়ই নেবে। 

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, এ আদেশ বাস্তবায়ন করার কথা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। তিনি এই কর্মকর্তার নাম শুনে বলেন, ‘ঠিক আছে আমি দেখছি।’

প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি বদলির আদেশ জারির পর তা বাস্তবায়ন না করা আইনের লঙ্ঘন। সে আলোকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।