দেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটরের বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে বলে সংসদে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর সেবা দিচ্ছে। এগুলো হলো, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, গ্রামীণফোন লিমিটেড, রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেড। এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধ নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী।
ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের দ্রুত ও সহজ সেবা দিতে ‘আমার ডাক’ অ্যাপভিত্তিক একটি সমন্বিত সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে পুরো ডাকসেবা কার্যক্রমকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। ঢাকা শহরে ২৪ ঘণ্টা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্থাপন করা হবে ‘স্মার্ট পোস্ট বক্স’। একই সঙ্গে ডাক অধিদপ্তরের জন্য ‘ডাক কমার্স’ নামে একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যা ডাকসেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ দিতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এগুলো হলো ‘মেইল প্রসেসিং এবং লজিস্টিক সার্ভিস টেকসই ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প’ এবং ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাক সেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ প্রকল্প’। এসব প্রকল্পের আওতায় দেশের সব ডাকঘরে ব্যবহৃত ডোমেস্টিক মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার উন্নত করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডাকপণ্যের ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাকিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জাতীয় ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) মাধ্যমে আগামী ৫ বছরে এক হাজার আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েটকে ইনফরমেশন টেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ার্স এক্সামিনেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের জন্য বিশ্বের ১৩টি দেশের আইসিটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মবাজারের চাহিদা পূরণে আরো ৫ হাজার ২০ জন চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষার্থীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালিটিকস এবং সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা হবে। একই সঙ্গে ৭০০ নারীকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং সরকারি সেবার অটোমেশন, এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি সেবাও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব হবে।






