• ই-পেপার

কায়রো পৌঁছেছেন ড. ইউনূস

ইসলামী ব্যাংকের গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুটসহ সবকিছুর তদন্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকের গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুটসহ সবকিছুর তদন্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে আগে যে গণহারে চাকরিচ্যুতি, হরিলুট, রাজনৈতিক নিয়োগ ও ঋণ জালিয়াতি হয়েছে, সবকিছুর সুষ্ঠু তদন্ত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক এবং জামায়াতে ইসলামী মানেই ‘ইসলাম’ নয় মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে সবকিছু থেকে বাঁচার সুযোগ নেই।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে এক সাধারণ আলোচনার ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
 
সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারগুলো বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।

এই প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা করেন। ব্যাংকটির সাবেক নিয়ন্ত্রকদের (জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট) ইঙ্গিত করে তিনি কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের কবিতা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে...।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একবার যে ব্যাংক আজান দিয়ে, তাকবির দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে গেলে যে কী যাতনা, তা আমরা বুঝি। এখন পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক সাজিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করানো হচ্ছে। ইসলামের ওপর হাত দেবেন না বলে দোহাই দেওয়া হচ্ছে। মাননীয় স্পিকার, ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়। 

ব্যাংকটির পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আরডিএস) তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি নারী গ্রাহক নির্ভর একটি প্রকল্প। ভোটের আগে এই প্রকল্প থেকে নারীদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে বলা হয়েছে— কোরআনের দলে ভোট না দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে না, ভোট দিলে জান্নাত মিলবে এবং আরও ১০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। এই আরডিএস প্রকল্পে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, যার কোনো হদিস নেই।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নাবিল গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছে। দুষ্টু লোকেরা বলে সেই টাকা একটি দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে এবং একটি টিভি চ্যানেল খোলা হয়েছে। লান্তাবুর গ্রুপকে হেড অফিসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাচনের আগে ৪০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। সিএসআর ফান্ডের টাকা দিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের বিমানের টিকিট কাটা হয়েছে। এগুলোর সবকিছুর তদন্ত হবে।

ইসলামী ব্যাংকে গণহারে চাকরিচ্যুতি ও রাজনৈতিক নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকটি দখল করার পর কোনো আইন-কানুন না মেনে অন্যায়ভাবে ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিপরীতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ৬ হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১৩ হাজার জনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই-তিনটি করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। এসব অনিয়ম ইসলামের নামেই হয়েছে। অন্যায়ভাবে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ‘প্রিজাম্পশন অব ইনোসেন্স’ নীতি অনুসারে তিনি বেনিফিট পাবেন। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তবে নিশ্চয়ই তদন্ত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫, ৪৬, ৪৭ ও ৫৭ ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় পর্ষদ বাতিল বা নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রয়েছে। 

বিরোধীদের শেয়ার ফেরত দেওয়ার দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইবনে সিনা ব্লক মার্কেটে তিনগুণ দামে শেয়ার বিক্রি করেছে, যা একটি রেকর্ড। তবে যারা বৈধ এবং প্রকৃত শেয়ারহোল্ডার, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের মালিকানা ফেরত দেওয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের লাখো কোটি টাকা পাচারসহ বিগত সময়ে দেশের যত টাকা পাচার হয়েছে, সবকিছুর সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন তিনি। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে আপনারা ব্যাংকের মালিক না। জামায়াতে ইসলাম ব্যাংকের মালিক না। আবার বলছে ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়। আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়। জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়। সুতরাং সবকিছুতেই ইসলামের ওপরে হাত দেবেন না দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, এখানে আরডিএস নামে একটা প্রকল্প আছে। সেই প্রকল্প হচ্ছে ইসলামী ব্যাংকের একটা ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মূল হচ্ছে পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প নামে। যেখানে ৫ হাজার, ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া যায়। নারী গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি। ভোটের আগে ১০ হাজার টাকা করে অনেক নারীকে দেওয়া হয়েছে। লাইনে এক ভোটারকে আমার এক কর্মী জিজ্ঞেস করেন ‘মা আপনি কোথায় ভোট দেবেন- বলছে বাবা, কোরআনের দলে না দিলে তো জান্নাতে যাওয়া যাবে না। ১০ হাজার টাকাও দিয়েছে, বলেছে এটা মাফ হয়ে যাবে, আরও ১০ হাজার টাকা পাবো। মুনাফা হিসাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত পাওয়ার নিশ্চয়তাও দিয়েছে। এই আরডিএস প্রকল্পের মধ্যে কত হাজার কোটি টাকা ডিস্ট্রিবিউট হয়েছে জানেন- ২২ হাজার কোটি টাকা। ১১ হাজার কোটি টাকা আগে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পরে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এর কোনো হদিস নেই। একজন নারী ভোটারের কথা তো বললাম।

তিনি আরও বলেন, আজকে ইন্টারেস্টিংলি দেখছি আমাদের এনসিপির বন্ধুরা কেউ নেই। আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে কী বয়কট করলেন কিনা জানি না, কেউ বক্তব্যও দেয়নি, আমি চেয়ারগুলো খালি দেখে বলতেছি।

সংসদে অর্থমন্ত্রী

হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ

অনলাইন ডেস্ক
হাসিনা পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিহ্নিত ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর দেশে ও বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে জব্দ ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজিং) করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে অর্থপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে এই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত আদালতের আদেশে দেশের অভ্যন্তরে ৯ হাজার ৯১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত (অ্যাটাচমেন্ট) এবং ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে ১৫ হাজার ১১১ কোটি ৯২ লাখ টাকার স্থাবর সম্পত্তি এবং ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ রয়েছে। বিদেশে অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে ১৩টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে। আরো ১২টি অনুরোধ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, অর্থপাচার-সংক্রান্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি মামলায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় হয়েছে। জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় চিহ্নিত ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুদকের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর কাজ করছে।

পাচার হওয়া অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং হংকং-চীনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং-চীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড বিকল্প সহযোগিতা কাঠামোর বিষয়ে মতামত দিয়েছে। এ ছাড়া পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মুজাহিদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক অনেক আর্থিক পণ্য এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। বাজার তদারকি ও কার্যকারিতা বাড়াতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিশনে অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ফলে পুঁজিবাজারে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপি শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জারি করা নীতিমালা কার্যকর রয়েছে। যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকে বিশেষ তদারকির আওতার আনা হয়েছে। এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতির মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন ঋণগ্রহীতা পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হবে। ঋণখেলাপিদের রিটের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহকে উৎসাহিত করা হবে। বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানি (এএমসি) প্রতিষ্ঠার জন্যও আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন আইনে সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। আগে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে আমানত ফেরত পেতে ১৮০ কার্যদিবস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো, নতুন আইনে তা কমিয়ে ১৭ কার্যদিবস করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিমানবাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানবাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩১তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্সের (জেসিএসসি) সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৯ জুন) কক্সবাজারের বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে এই সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি এয়ার অধিনায়ক (এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার) এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া কর্মকর্তাদের সনদপত্র ও ট্রফি প্রদান করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কোর্সে সেরা নৈপুণ্যের জন্য বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার আহমদ মুসাকে ‘বিমানবাহিনী প্রধানের ট্রফি’ প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, কোর্সে দেশ ও বিদেশের বিমানবাহিনীর ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তাদের সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে কমান্ড, স্টাফ এবং নির্দেশমূলক দায়িত্ব পালনে পারদর্শী করে তুলতে এই কোর্সটি বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান সদরসহ ঘাঁটির সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পরিবেশ স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নদীবন্ধু মনির

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় পরিবেশ স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নদীবন্ধু মনির

পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে সচেতন করার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর স্বীকৃতি পাচ্ছেন মো. মনির হোসেন। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাচ্ছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫’।

পরিবেশ নিয়ে কাজ করা, মানুষকে সচেতন করে তোলা—এ যেন তার নিত্যদিনের ব্রত। সেই একনিষ্ঠ প্রচেষ্টাই এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাচ্ছেন তিনি।

গত ৭ জুন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-৩ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের সই করা প্রজ্ঞাপনে চূড়ান্তভাবে মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

‘জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৯)’ অনুযায়ী ব্যক্তিগত পর্যায়ে ‘পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছেন মনির হোসেন। তিনি বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের (বিআরএফ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নদীর পরিবেশ, প্রতিবেশ ও নাব্যতা রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

পুরস্কার হিসেবে মনির হোসেন পাবেন ২২ ক্যারেট মানের দুই তোলা ওজনের সোনার সমপরিমাণ বাজারমূল্য, ৫০ হাজার টাকার চেক, একটি সম্মানসূচক ক্রেস্ট এবং সনদপত্র।

এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ শ্রেণিতে পদক পাচ্ছেন মো. হাসমত আলী। তিনি সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক।

পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন শ্রেণিতে পদক পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম।

উল্লেখ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ রোধ, গবেষণা এবং পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে যারা নীরবে কাজ করে যান, তাদের অবদানের মূল্যায়ন করতেই সরকার প্রতিবছর ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই সম্মানজনক পদক প্রদান করে থাকে।

কায়রো পৌঁছেছেন ড. ইউনূস | কালের কণ্ঠ