kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিলের জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া অবৈধ, বললেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ২১:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিলের জমি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া অবৈধ, বললেন হাইকোর্ট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে বিলের জমি পতিত দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বন্দোবস্ত দেওয়া জমি জনস্বার্থে আগের রেকর্ডে ফিরিয়ে এনে তা সংরক্ষণ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় সোয়া চার একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার এ রায় দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. ইজারুল হক আকন্দের দ্বৈত বেঞ্চ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চর রাজাবাড়ি মৌজায় ৪ দশমিক ২৩ একর জমি বিল শ্রেণিভুক্ত হিসেবে জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ড করা।

বিজ্ঞাপন

গত বছর বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ জমি ‘অকৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা’র আলোকে শ্রেণি পরিবর্তন করে তা ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বন্দোবস্ত দিতে জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ পাঠান। এ সুপারিশের প্রেক্ষিতেই জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে বিল শ্রেণিভুক্ত জমিকে ‘পতিত’ দেখিয়ে রেকর্ড করা হয়। পরে তা নামমাত্র দামে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বন্দোবস্ত দিতে জেলা প্রশাসক ভূমিসচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠান।

দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিল, জলাধারভুক্ত জমি বা ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে গত বছরের ১১ নভেম্বর হাইকোর্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে রিট করা হয়।  

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আদালত রিটটির প্রাথমিক শুনানির পর রুলের পাশাপাশি জমিটি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বন্দোবস্ত দেওয়ার কার্যক্রমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। ‘বিল’ শ্রেণিভুক্ত জমি ‘পতিত’ দেখিয়ে রেকর্ড পরিবর্তন এবং ‘বিল’ শ্রেণির জমি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়ার কার্যক্রম কেন সংবিধানবিরোধী, বেআইনি ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে জনস্বার্থে ভূমিটির আগের রেকর্ড ফিরিয়ে আনা ও সংরক্ষণ করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।

ভূমিসচিব, পরিবেশসচিব, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ১১ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। চূড়ান্ত শুনানির পর সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দিলেন উচ্চ আদালত।

আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আশরাফ আলী। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস হাসানুল বান্না। আর ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পক্ষে রুল শুনানি করেন মোহাম্মদ বাকীর উদ্দিন ভুঁইয়া।

এ আইনজীবী কালের কণ্ঠকে বলেন, “বিএস রেকর্ড অনুযায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া জমিটি ‘নামা’ শ্রেণি থেকে ‘পতিত’ শ্রেণিভুক্ত করে রেকর্ড পরিবর্তন করেছে জেলা প্রশাসক। আইনগতভাবেই এমনটা করতে পারেন জেলা প্রশাসক। জলাধার সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ আইনে জলাধারের যে সংজ্ঞা দেওয়া আছে সেখানে ‘নামা’ জমির কথা বলা নেই। এ বিষয়টি যথাযথ বিবেচনা না করে রায় দেওয়ায় এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। ”



সাতদিনের সেরা