kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

উন্নয়নমূলক কাজে মন্ত্রণালয়ের দিকে চেয়ে আছে মুসল্লি কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ২০:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উন্নয়নমূলক কাজে মন্ত্রণালয়ের দিকে চেয়ে আছে মুসল্লি কমিটি

মুসলিম দেশের একটি জাতীয় মসজিদে যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থাপনা মুসল্লিদের জন্য থাকা দরকার সেগুলো রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নেই। বিভিন্ন দেশের জাতীয় মসজিদে রয়েছে বিশ্বমানের ইসলামিক গবেষণা করার জন্য ইসলামিক লাইব্রেরি ও রিসার্চ সেন্টার, অত্যাধুনিক জেনারেটর, উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম, আধুনিক অজুখানা ও শৌচাগার। কিন্তু বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রতিষ্ঠাতার কয়েক যুগ পেরিয়ে গেলেও মুসল্লিদের জন্য এ ধরনের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বায়তুল মোকাররম ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির সদস্যরা এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মুসল্লি কমিটির সভাপতি হাজি মো. ইয়াকুব আলী বলেন, ‘এই জাতীয় মসজিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বরাবর কিছুদিন আগে আবেদন করেছি; কিন্তু এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। ’

ইয়াকুব আলী আরো বলেন, এখানে বিশ্বমানের লাইব্রেরি প্রয়োজন, যেন মুসল্লিরা সকল প্রকার মাসলা-মাসায়েল জানতে পারেন। এ ছাড়া মুসল্লিদের জন্য আধুনিক অজুখানা ও শৌচাগার প্রয়োজন। ধর্ম মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদন দেয় তাহলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সায়েম সোবহান আনভীর এসব কাজ করে দিতে আগ্রহ পোষণ করেছেন। এ বিষয়ে ৯ নভেম্বর ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা চিঠি দিয়েছি। সে সময় মন্ত্রী এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা অনুমতির অপেক্ষায় আছি। ’

মুসল্লি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মানিক বলেন, ‘বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হয়। যেহেতু এটা সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করলেও তাদের অনুমতির প্রয়োজন। এ জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চিঠি দিয়েছি। বর্তমানে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই। যেটা আছে অনেক দূরে থাকায় হকার এবং তৃণমূলের বহিরাগতরা নষ্ট করে দিচ্ছে, তা মুসল্লিদের কোনো উপকারে আসছে না। এখানে পর্যাপ্ত জায়গা আছে অত্যাধুনিকভাবে শৌচাগার করার মতো। ’

তিনি আরো বলেন, ‘এ ছাড়া মুসল্লিদের জন্য জ্ঞানার্জন ও ইসলামিক শিক্ষার জন্য বিশ্বমানের ডিজিটাল লাইব্রেরিসহ আধুনিক অজুখানা ও শৌচাগার করা প্রয়োজন। ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে আমাদের মুসল্লি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সায়েম সোবহান আনভীর নিজ অর্থায়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ডিজিটাল লাইব্রেরিসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট উন্নয়নমূলক কাজগুলো পর্যাক্রমে করে দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ’

আরো বক্তব্য দেন মুসল্লি কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন গাজী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন।

দেশের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে জাতীয় এ মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ পড়তে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক লোক আসেন। মুসল্লিরা আধুনিক সুবিধা না পাওয়ায় বেশ কিছু সমস্যার সস্মুখীন হচ্ছেন জানিয়েছেন বক্তারা। এ সময় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন তারা।

এর মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব, নেই বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত চেয়ারের ব্যবস্থা, নেই প্রয়োজনীয় পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার সুব্যবস্থা ও পড়ার রেহাল/স্ট্যান্ড; রয়েছে নামাজের সম্মুখে পর্যাপ্ত স্ট্যান্ডের (সুত্রা) অভাব। এ ছাড়া রয়েছে তাবলিগ জামাতের টয়লেট, অজুখানা, রান্না ও গোসলের সুব্যবস্থার অভাব, নেই পর্যাপ্ত কার্পেটসহ তার ওপরের সাদা কাপড়। মসজিদে পর্যাপ্ত মুয়াজ্জিনেরও অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া ফয়সাল আহমেদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আতাউর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন, বর্তমান সদস্য জালাল সরকার ও নাজমুল হুদা প্রমুখ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. মুনিম হাসান বলেন, ‘আমি অল্প কিছুদিন হলো এই দায়িত্বে এসেছি। বায়তুল মোকাররম মসজিদে কী কী কাজ হয়েছে; আর বর্তমানে কী ধরনের কাজ বা সংস্কারের প্রয়োজন এ বিষয়ে আমি অবগত না। এগুলো জেনে জানাতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা