kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেলাই করা খোলা মুখ

সম্মানিত খেলুড়েদের প্রতি বিনীত আরজ

মোফাজ্জল করিম   

১৯ নভেম্বর, ২০২২ ০৪:৪২ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



সম্মানিত খেলুড়েদের প্রতি বিনীত আরজ

গত কিছুদিন ধরে ‘খেলা হবে’ ‘খেলা হবে’ ধ্বনিটি রাজনৈতিক অঙ্গনে স্লোগানের মতো পুনঃপুনঃ উচ্চারিত হতে দেখে রীতিমতো ধন্দ লাগে, বাঙালি কি অবশেষে ক্রীড়াপ্রিয় জাতি হয়ে গেল। বাঙালি সচরাচর কৌতুকপ্রিয়, অতিথিপরায়ণ, নম্র, ভদ্র, সংস্কৃতিমান ইত্যাদি অভিধায় অভিহিত হয়ে থাকে। কিন্তু তার ক্রীড়াপ্রীতির কথা বড় একটা শোনা যায় না। অবশ্য সম্প্রতি বাঙালি ললনারা ফুটবল খেলায় দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে প্রমাণ করেছে তাদের মা-নানী-দাদীরা চিরকাল কেবল হেঁশেলের পাশে বসে বসে নিজেদের জীবন-যৌবন দগ্ধীভূত হতে দেখলেও এই একবিংশ শতাব্দীর বাঙালি নারীরা সুযোগ-সুবিধা পেলে বিশ্ব জয় করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তারা আর বেগম রোকেয়ার আমলের অসূর্যম্পশ্যা অবরোধবাসিনী নয়, তারা একাত্তরের এক সাগর রক্ততরঙ্গে ভেসে আসা রক্তগোলাপ। যাক, সেই অমিত সম্ভাবনা নিয়ে আজ নয়, আরেক দিন আলাপ করা যাবে। আজকে প্রসঙ্গটি টেনে আনার কারণ আমাদের বর্তমান প্রজন্মের মেয়েদের ফুটবল-সাফল্য এবং কখনো কখনো হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো ছেলেদের ক্রিকেটীয় অর্জন দেখে কিনা জানি না, আমাদের কোনো কোনো শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদ তাঁদের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতায় আজকাল রাজনৈতিক তৎপরতাকে ‘খেলা’ ভাবতে শুরু করেছেন।
২.

আমাদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে খেলা বললেই সর্বাগ্রে ঈশপের গল্পের সেই দুষ্টু বালক ও এঁদো ডোবার ব্যাঙদের গল্পটাই মনে পড়ে। আমাদের শৈশবে-কৈশোরে স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে ঈশপের গল্প বা এ ধরনের নীতিকথামূলক গল্প-উপাখ্যান বা পদ্য অবশ্যই সংযোজিত থাকত। আমার ভাবতে কষ্ট হয়, এখনকার ছেলেমেয়েদের বই থেকে ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান/মুসলিম তার নয়নমণি, হিন্দু তাহার প্রাণ’-এর মতো কবিতা, যা পাকিস্তান আমলেও উনিশ শ পঞ্চাশের দশকে-ষাটের দশকে পাকিস্তানি পুঁথি-পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত ছিল বা ঈশপের সদুপদেশমূলক ছোট ছোট গল্প নির্বাসিত হয়ে গেছে। এতে ঈশপের কালজয়ী গল্পগুলোর অমরত্ব এতটুকুও বিনষ্ট হয়নি বা বাংলা সাহিত্যের অসাম্প্রদায়িক কবি-সাহিত্যিকের খ্যাতিতে সামান্যতম কালিমা লিপ্ত হয়নি, বরং ক্ষতি হয়েছে আমাদের কোমলমতি শিশু-কিশোরদের, যারা জীবনের উষাকালে তাদের মেধায়-মননে সুকুমার চেতনার বীজ বপন না করে আঠার মতো সেঁটে থাকে সেলফোনের পর্দায়, অথবা টেলিভিশনের অশ্লীল বিজ্ঞাপনচিত্রে। দুষ্টু বালকেরা ও প্রবীণ ভেকের গল্পটি তাই অতি অল্প কথায় উদ্ধৃত করতে হচ্ছে অপেক্ষাকৃত নবীন পাঠকের কথা স্মরণ করে। গল্পটি এ রকম—পথের ধারের এক এঁদো ডোবায় বাস করত বেশ কিছু ব্যাঙ। তারা সারা দিন ব্যস্ত থাকত ডোবার পানিতে সাঁতার-ডুব সাঁতারে, খাবার অন্বেষণে, আর না হয় একজন আরেকজনের সঙ্গে খুনসুটিতে। একদিন এক দুষ্টু বালক তার সঙ্গীসাথীকে নিয়ে ওই দিকে যাওয়ার সময় ব্যাঙগুলোকে দেখে থমকে দাঁড়াল। তারপর তার নেতৃত্বে ওরা সবাই মিলে ওই নিরীহ প্রাণীগুলোর দিকে নুড়িপাথর ছুড়ে ওদের বধ করতে লাগল। তখন ব্যাঙদের মধ্যে সবচেয়ে যে বয়োবৃদ্ধ সেই প্রবীণ দলপতি বালকদের জিগ্যেস করল : তোমরা অকারণে আমাদের দিকে ঢিল ছুড়ছ কেন? দেখছ না আমরা মারা যাচ্ছি? ওই সর্দার ছোকরা জবাব দিল : আমরা তোমাদের মারছি কোথায়? আমরা তো খেলা করছি। ব্যাঙের সর্দার এরপর যা বলল তা একটি ক্লাসিক উক্তি হয়ে আছে সেই থেকে। ‘কিন্তু বাবা, তোমাদের নিকট যা খেলা আমাদের জন্য তাই মৃত্যু’, (‘হোয়াট ইজ প্লে টু ইউ ইজ ডেথ টু আস’)। সম্মানিত রাজনীতিবিদরা, আপনারা ‘খেলা হবে’ ‘খেলা হবে’ বলে অদূর ভবিষ্যতে যে খেলার জন্য সাজ সাজ রব তুলেছেন তাতে বিশ্বাস করুন দেশের আপামর জনসাধারণ ওই এঁদো ডোবার অসহায় ভেককুলের মতো ভীতসন্ত্রস্ত। আপনারা খেলোয়াড় মানুষ, খেলাতেই আপনাদের আনন্দ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আপনাদের খেলা দেখে পাবলিক কিন্তু মোটেই আনন্দ পায় না। মাঠে আপনারা এবং রেফারি সবাই চলেন নিজ নিজ স্বৈরাচারী স্টাইলে। সারাক্ষণ ফাউল, হ্যান্ডবল, অফসাইডের ছড়াছড়ি। আমার অনুজপ্রতিম সহকর্মী মরহুম ডক্টর সা’দত হুসাইন বহুকাল আগে পত্রিকায় একটা নিবন্ধ লিখেছিল, যার শিরোনাম ছিল : ‘ঠেলি খেল, ফাউল নাই’। সেই রকম আর কি। ফলে যে বিশৃঙ্খলা ও মারামারি-হাতাহাতি শুরু হয় আপনাদের মধ্যে, তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে, যেখানে পটকাবাজি-হাতাহাতিই কেবল নয়, বোমাবাজিও চলে। আর তাতে প্রাণ যায় কাদের? কাদের আবার, মরিচের ছাড়া আর কার? সেই যে পুরনো প্রবচন : পাটা-পুতাইলে ঘষাঘষি মরিচের জান যায়। মরিচ বেচারা পাটা-পুতাইলের ‘খেইড়’ (সিলেটে আমাদের গ্রামাঞ্চলে খেলা শব্দের গ্রামীণ রূপ)। দেখতে যায় ফুরফুরে মেজাজে, কিন্তু দুই দলের ‘মাইনকা চিপায়’ পড়ে এক ফাঁকে তার জানটা বাজে খরচ হয়ে যায়। পত্রপত্রিকায় দু-চার দিন মোটামুটি হুল্লা-গুল্লা হয়, তারপর নতুন কোনো গরম খবর এসে শহীদ কাল্লুর খবরকে কবর দিয়ে দেয়। যেন কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে সামনের ঢেউটিকে পেছনের ঢেউ এসে জন্মের মতো চাপা দিয়ে দেয়।

৩.

বিষয়টিতে উম্মি পাবলিকের ‘দুইখান কথা আছে’, যদি মাননীয় রাজনীতিকরা অনুমতি দেন তো বলি। আপনারা দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্য রাতের ঘুম ও দিনের আরাম হারাম করে কাজ করে চলেছেন, দেশ যাতে দ্রুত হপ স্টেপ অ্যান্ড জাম্প এবং পোল ভল্ট দিয়ে এক শ বছরের পথ এক বছরে পার হয়ে যায়। নিরন্তর সেই প্রচেষ্টা আপনাদের। সাধু, সাধু! আল্লাহ আপনাদের সেই তওফিক এনায়েত করুন, সেই দু’আ খেয়ে না খেয়ে সাড়ে ষোলো কোটি মানুষ সব সময় করছে। কিন্তু ফুটবল খেলতে নেমে বলে লাথি না মেরে যদি সারাক্ষণ প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের হাঁটুকে টার্গেট বানানোর ধান্ধায় থাকেন, তবে গোলের দেখা পাবেন কী করে। এতে হয়তো আপনার দলের পাঁড় মাতাল সমর্থকটি গ্যালারিতে বসে উল্লাসে ফেটে পড়বে, যখন দেখবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা ঘন ঘন স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ ছাড়ছে। কিন্তু নিরপেক্ষ রেফারি হলে যে আপনার দলের দু-চারজনকেও লাল কার্ডকে সম্মান জানিয়ে মাঠ ছাড়তে হতে পারে সে খেয়াল আছে? অবশ্য আপনার দল যদি আমাদের ছেলেবেলার ‘কমিটির টিম’ হয়, তাহলে অন্য কথা। তখন রেফারি-লাইন্সম্যানরা লাল কার্ড-হলুদ কার্ড দেখানো দূরের কথা, পারলে কমিটির দলের খেলুড়েটিকে মাঠে বসিয়েই কোল্ড ড্রিংক-হট ড্রিংক খাওয়ায়। ও, কমিটির টিম কি বস্তু বুঝতে পারছেন না, না? বুঝেছি, আপনি শতকরা এক শ ভাগ হালাল সাবানের মতো একজন সৎ দর্শক, কোনো ছলচাতুরী বোঝেন না। অথবা এই মুহূর্তে সেই সুদূর অতীতের অনেক স্মৃতিতে আজ এত বছর পর ছাতা পড়েছে। নিন, আমি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আজ থেকে ৬০/৭০ বছর আগে বাংলাদেশের প্রায় সব শহরেই শিশু-কিশোরদের জন্য ছোট-বড় খেলার মাঠ ছিল। (আমার শৈশব-কৈশোরের বগুড়া শহর এ ব্যাপারে দশে দশ পেত নিঃসন্দেহে। ) এগুলো এখন বহুতলবিশিষ্ট বাসভবন, বিপণিবিতান, অফিস-আদালতের নিচে চাপা পড়েছে। এসব মাঠে সেকালে শহরের অনেক উৎসাহী যুবক ও সমাজকর্মী প্রতিবছর শিশু-কিশোরদের জন্য ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করতেন। এতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে শহর-শহরতলীর ক্লাবগুলো অংশগ্রহণ করত। আর প্রায় প্রতিটি টুর্নামেন্টে একটা দল থাকত আয়োজক কমিটির নিজস্ব বা আশীর্বাদপুষ্ট দল। এদের সাত খুন না হলেও দু-চারটা খুন রেফারি সাহেবরা মাফ করতেন। অন্যথায় তাঁদের চাকরি খোয়ানোর আশঙ্কা ছিল। (আমাদের দেশে বিগত কোনো কোনো নির্বাচন কমিশনের আচরণ শৈশবের সেই কমিটির টিমের প্রতি রেফারির আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বৈকি। )

৪.

হ্যাঁ, কথা হচ্ছিল আমাদের শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদদের ‘খেলা হবে’ ‘খেলা হবে’ বলে জিকির তোলা নিয়ে। তাঁরা রাজনীতি, আন্দোলন, নির্বাচন ইত্যাদিকে খেলা মনে করেন। তার মানে কী? আর বছরখানেক পরে দেশে জাতীয় নির্বাচন হবে। এখনকার সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে সেই নির্বাচন। আর তাকে কিনা আমাদের মান্যবররা মনে করেন একটা খেলা। সেই খেলাতে তাঁদের মনোভাব কি ‘হারি জিতি নাহি লাজ’ মার্কা? নাকি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যের সেই ‘মারি অরি (শত্রু) পারি যে কৌশলে’ নীতিই তাঁদের প্রথম ও শেষ কথা? আমার তো মনে হয় নির্বাচনে হেরে গেলে পরাজয় হৃষ্টচিত্তে মেনে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের দেশের বড় দলগুলোর মধ্যে এখনো গড়ে ওঠেনি। আর সে জন্যই যেকোনো মূল্যে জিততে আমাদের হবেই, বাই মিনস ফেয়ার অর ফাউল, সোজা বাংলায় ছলে-বলে-কৌশলে। এটাই হচ্ছে নির্বাচনের মূলমন্ত্র। কী সাংঘাতিক! এরপরে আমরা ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, গণতন্ত্র ইত্যাদির কথা বলি কী করে? রাজনীতিবিদদের এই মানসিকতার কারণে নির্বাচন আর ভোটের ব্যাপার থাকে না, হয়ে যায় চরদখলের প্রতিযোগিতা।

নির্বাচনকে খেলা তখনই মনে করা যাবে যখন এর ‘খোলোয়াড়রা’, আয়োজকরা, দর্শকরা, এককথায় সবাই খেলার নিয়ম-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলবেন। তখন বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মুখ দেখবে, যে নির্বাচনের ফলাফল অংশগ্রহণকারী সব দল ও আমজনতা নির্দ্বিধায় মেনে নেবে। কিন্তু এখন আমরা কী দেখতে পাচ্ছি? নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনের আর বাকি আছে এক বছরের মতো। সামনের বছর পুরোটাই যাবে নির্বাচনী ডামাডোলে। স্বাভাবিক। কিন্তু যা স্বাভাবিক নয় তা হচ্ছে কোথাও কোথাও (এবং কখনোসখনো) আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। কেউ হয়তো বলতে পারেন এগুলো একটু-আধটু তো হবেই। মানলাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ঈশানকোণে যে মেঘ জমছে, সেই সঙ্গে যে ঈষদুষ্ণ হাওয়া বইতে শুরু করছে, তা কি আমরা ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ করছি? নাকি ৩ নম্বর বিপদসংকেত দেখিয়ে যেতে বলে আমরা কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ছি? সর্বোপরি বিগত ‘ঘূর্ণিঝড়’গুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা সেগুলো কি নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে? নাকি আমরা আবারও একটি দুপুর রাতের নির্বাচনের অপেক্ষায় আছি? (১৪ নভেম্বর টিভির সংবাদে দেখলাম, জাপানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত এক সাক্ষাৎকারে বিস্ময়ের সঙ্গে বাংলাদেশে রাত দুপুরের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছেন। কী লজ্জা! আর কোনো দিন যেন শুনতে না হয় নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়ের মতো নিশীথ ভোটের দেশ বাংলাদেশ। সামান্যতম লাজলজ্জা যার আছে সে কোনো দিন ওই ধরনের নির্বাচনকে সুষ্ঠু-সুন্দর বলে সার্টিফিকেট দেবে না। অথচ তখনকার কমিশন...। শেইম, শেইম অন আস। )

এ কথা এখন সবাই বলছেন, দেশের পরিস্থিতি বর্তমানে বাস্তবিকই নাজুক। একদিকে দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। বিশেষ করে বিত্তবেসাতহীন বস্তিবাসী, ভূমিহীন চাষি, দিনমজুর ও সীমিত আয়ের মানুষের। অপরদিকে রাজনৈতিক নেতাদের আতঙ্ক ছড়ানো আস্ফাালন। সবাই ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে আছে আগামী ১২/১৩ মাস কী হবে দেশে সেই দুশ্চিন্তায়। এ থেকে মুক্তি দিতে পারেন এখন যাঁরা দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ আছেন, যাঁদের আমরা বলতে পারি ‘মেন অব ডেস্টিনি’ (ভাগ্যনিয়ন্তা), একমাত্র তাঁরাই। দোহাই আপনাদের, আপনারা দেশের অগণিত ‘সাইলেন্ট মেজরিটির’ কথা ভেবে আপনাদের গোঁ ত্যাগ করুন, আলোচনায় বসুন, একটি সমাধানে পৌঁছান। এই দুর্ভাগা জাতির ইতিহাসে আপনারা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মনে রাখবেন, একাত্তরে আমাদের মূল চালিকাশক্তি ছিল জাতীয় ঐক্য, অবিভাজিত বাংলাদেশ, যা আজও আমরা আমাদের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য, মসনদের মোহের জন্য কিছুতেই বিসর্জন দিতে পারি না। পরম সম্মানিত খেলুড়েগণ আপনারা খেলতে চান, খেলুন। ভালো কথা। খেলাধুলা করলে দেহ-মন ভালো থাকে। তবে খেলা হতে হবে নিয়ম-কানুন মেনে। শুধু ফাউল, হ্যান্ডবল, অফসাইডনির্ভর খেলা নয়। সেটা কী রকম যদি জানতে চান, তাহলে এখন কাতারে বিশ্বকাপের যে খেলা ২০ নভেম্বর রবিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে, সেটা বেশি বেশি করে দেখুন এবং তা থেকে সবক নিন। শান্তিতে থাকতে দিন দেশবাসীকে।

লেখক : সাবেক সচিব, কবি
[email protected]



সাতদিনের সেরা