kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘জনগণের সমাবেশ ঠেকাতে আসবেন না’, পুলিশের উদ্দেশে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০২২ ১৯:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘জনগণের সমাবেশ ঠেকাতে আসবেন না’, পুলিশের উদ্দেশে বিএনপি

রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, এ জন্য ছাত্রসমাজকে আইয়ুব ও এরশাদ পতনের মতো রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ছাত্র সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এই সমাবেশ করে ছাত্রদল।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রদলের সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আরো বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষনেতা শহীদুল ইসলাম বাবুল, রাজীব আহসান প্রমুখ।

ঢাকাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ জেলা, মহানগরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এই সমাবেশে যোগ দেন।

এ সময় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, লুটপাট করে অর্থনীতিকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। আইএমএফ (কর্মকর্তারা) এসেছিলেন বাংলাদেশে। তাঁদের একটি প্রশ্নের উত্তরও তারা (সরকার) দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীনদের লুটপাট আর দুর্নীতির কারণে ডলারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আমদানির জন্য করা এলসি বাতিল হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের লোড শেডিং, সরকারের অপশাসনের কারণে জনগণ আজ অতিষ্ঠ। এখন বাংলাদেশের জনগণ একটি ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তা হচ্ছে, এই সরকারের হাত থেকে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণকে রক্ষা করতে হবে।

চলমান বিভাগীয় সমাবেশ প্রসঙ্গ টেনে ড. মোশাররফ বলেন, সরকারের বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বিভাগীয় সমাবেশে কিভাবে লোকজন অংশ নিচ্ছে। সরকারের কোনো বাধা-বিপত্তি আমাদের সমাবেশকে রুখে দিতে পারেনি। ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর যে সমাবেশ হবে আমরা বিশ্বাস করি, যেভাবে জনগণ সারা বাংলাদেশে বিভাগীয় সমাবেশ সফল করেছে, ঢাকা সমাবেশও সেইভাবে সফল হবে।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আমাদের সামনে সরকারকে হটানোই চ্যালেঞ্জ। আগামীতে আমাদের মূল দাবি- এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পরিবেশ সৃষ্টি করা।

সরকার পতনসহ দাবি আদায়ে ছাত্রদলকে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ড. মোশাররফ।  

আমান উল্লাহ আমান বলেন, আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজপথে ফয়সালা করতে হবে। প্রয়োজনে '৫২, '৬২, '৬৯, '৭১ এবং '৯০-এর আন্দোলনের মতো আবারও রক্ত দেব। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে বলব, এবার যদি নিজের অধীনে (আওয়ামী লীগ সরকার) ভোট করে জাতীয় সংসদে বিএনপিকে ৬ সিট, জাতীয় পার্টিকে ৩০ সিট দিতে চান-এটা বাংলার মাটিতে আর হবে না।

আবদুস সালাম বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা বাকশালে বিশ্বাস করে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা সমাবেশ হবে, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ ভাইদের বলব জনগণের এই সমাবেশ ঠেকাতে আসবেন না। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের সমাবেশ করব।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এখন আমাদের এমন আন্দোলন করতে হবে, যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। যার বিনিময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্ররা তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।



সাতদিনের সেরা