kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

বড় শক্তিগুলোকে বিরক্ত করতে চাইবে না ঢাকা

অনলাইন ডেস্ক   

১৬ অক্টোবর, ২০২২ ০২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড় শক্তিগুলোকে বিরক্ত করতে চাইবে না ঢাকা

বাংলাদেশ সব সময় বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। তাই মানবাধিকার পরিষদে কাউকে বিরক্ত করার ঝুঁকি নিতে চাইবে না বাংলাদেশ। কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান

কালের কণ্ঠ : মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার মধ্যে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বিপুল সমর্থনে বাংলাদেশ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এটাকে কিভাবে দেখছেন?

মাইকেল কুগেলম্যান : জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বড় অবদান আছে বাংলাদেশের। এ কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘে যথেষ্ট শুভ কামনা পেয়ে আসছে। সম্ভবত বিশ্বে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের এই ভূমিকা মানবাধিকার পরিষদে ভোট পেতে ভূমিকা রেখেছে।

কালের কণ্ঠ : যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব ও এর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার পর মার্কিন প্রতিক্রিয়া কী?

মাইকেল কুগেলম্যান : আমার মনে হয় না যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশের চেয়েও অনেক বেশি সমালোচিত, মানবাধিকারের ক্ষেত্রে খ্যাতি নেই এমন অনেক দেশও মানবাধিকার পরিষদে কাজ করছে। আমার মনে হচ্ছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কী কাজ করছে, তার চেয়েও বেশি দৃষ্টি থাকবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণভাবে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে কী করছে তার দিকে।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশ সাধারণত কোনো রাষ্ট্রকে টার্গেট করে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় না। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। মানবাধিকার পরিষদে শক্তিশালী ভূমিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি কতটা সহায়ক হবে?

মাইকেল কুগেলম্যান : বাংলাদেশ ভারসাম্য রক্ষাকারী দেশ। বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক চায়। তাই বাংলাদেশ কাউকে বিরক্ত করার ঝুঁকি নিতে চায় না। তাই আমি আশা করি না, বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হিসেবে অনেক শক্তিশালী অবস্থান নেবে।

কালের কণ্ঠ : দুই সপ্তাহ আগে মানবাধিকার পরিষদের সদস্যরা চীনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করেছে। মানবাধিকার পরিষদের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

মাইকেল কুগেলম্যান : সত্যি বলতে, আমি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে মানবাধিকার প্রচারের জোরালো শক্তি হিসেবে দেখি না। আমার মতে, এই সংস্থা জাতিসংঘের অংশ হিসেবে কিছু রাষ্ট্রকে সদস্য হওয়ার সুযোগ করে দেয়। তাদের অনেকেরই মানবাধিকারচর্চার ইতিহাস বেশ দুর্বল ও নাজুক। তারা মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হয়ে মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষায় ততটা ভূমিকা রাখে না।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশ কি তার মানবাধিকারের অঙ্গীকারের ব্যাপারে বিশ্বে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে পারবে?

মাইকেল কুগেলম্যান : আমার ধারণা, বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদে ব্যাপক সমর্থনে সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে বিশ্বব্যাপী তার ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টির কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করবে। বলতে চাইবে, মানবাধিকারের প্রতি বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু অনেক সংশয়বাদী এ ব্যাপারে একমত হবেন না। বাংলাদেশ বরং আগামী দিনে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিয়ে বিশ্বকে দেখাতে পারে যে এ দেশ জাতিসংঘের নিবেদিত সমর্থক এবং রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

কালের কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মাইকেল কুগেলম্যান : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা