kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কথিত হিজরত

নিখোঁজ চার তরুণসহ সাতজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০৩:৫০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিখোঁজ চার তরুণসহ সাতজন গ্রেপ্তার

জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি : কালের কণ্ঠ

কথিত হিজরতের নামে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া নিখোঁজ চার শিক্ষার্থীসহ সাতজনকে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বুধবার রাতে তাঁদের মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) গ্রেপ্তার করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংস্থার আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে আছেন কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ ইমতিয়াজ আহমেদ রিফাত (১৯), হাসিবুল ইসলাম (২০) এবং একই উদ্দেশ্যে নিখোঁজ গোপালগঞ্জের ডিপ্লোমা প্রকৌশলী রোমান শিকদার ও ঢাকার একটি ছাপাখানার কর্মী সাবিত (১৯)।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন বারির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নেছার উদ্দিন ওরফে উমায়ের (৩৪), সেলস ও সার্ভিসের ব্যবসায়ী বনি আমিন (২৭) এবং পটুয়াখালীর হোসাইন আহম্মদ (৩৩)। হোসাইন, নেছার, বনি ও সাবিতের বাড়ি পটুয়াখালীতে।  

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার সবাই জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া ‘পূর্বাঞ্চলীয় হিন্দের জামাতুল আনসার’ নামের নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য ঘর ছেড়েছিলেন তাঁরা। এঁদের মধ্যে চারজন নতুন জঙ্গি সংগঠনের ‘রিক্রুট’। আর তিনজন তাঁদের তত্ত্বাবধায়ক ও প্রশিক্ষণদাতা। এই দলে জেএমবি, আনসার আল ইসলাম ও হুজির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য আছেন। ২০১৯ সালে সংগঠনটির নাম দেওয়া হয় ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়া’। নিষিদ্ধ দুই জঙ্গি সংগঠন জেএমবি ও আনসার আল ইসলাম থেকে বেরিয়ে কিছু লোক এই নতুন জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলেন। ২০১৭ সালে নতুন এই জঙ্গি সংগঠন গঠিত হয়। নতুন সদস্যদের বোঝানো হয়েছে, আগের সংগঠনগুলোর থেকে এই সংগঠন অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। এখন পর্যন্ত নতুন সংগঠনের আঞ্চলিক নেতা এবং নিচের সারির কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর প্রধান কে বা শুরা সদস্য কারা, সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।

র‌্যাবের মুখপাত্র মঈন বলেন, কুমিল্লা ও ঢাকার সাত কলেজছাত্র গত ২৩ আগস্ট বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁরা ফিরে না আসায় গত ২৫ আগস্ট কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিরুদ্দেশ তরুণদের কয়েকজনকে শেষবার দেখা গিয়েছিল চাঁদপুরে—এ তথ্য জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং সব কিছু বিবেচনা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সে সময় ধারণা হয়, ‘জঙ্গিবাদে জড়িয়েই’ লাপাত্তা হয়েছেন ওই তরুণরা।

কুমিল্লার সাত তরুণের সঙ্গী ঢাকার কল্যাণপুরের শারতাজ ইসলাম নিলয় নামের আরেক তরুণ বাড়ি ছাড়ার এক সপ্তাহ পর গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কল্যাণপুরের নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক মাস ধরে অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে র‌্যাব সাতজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় জানিয়ে র‌্যাব বলে, নিলয়কে জিজ্ঞাসাবাদে নিখোঁজ সাতজন এবং জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল জানিয়ে নিলয় বলেন, খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে অন্য তরুণদের সঙ্গে ঘর ছাড়েন তিনি। তাঁকে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তবে পটুয়াখালীতে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন জঙ্গিবাদ ভুল পথ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবার ছেড়ে হিজরতের কথাটা যখন আসে তখন থেকে এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। অনেকটা বাধ্য হয়ে আমি সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। সুযোগ বুঝে আমি বাসায় ফিরে আসি। ’

র‌্যাবের মুখপাত্র আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নব্য জেএমবির তিন ধরনের প্রচারপত্র, বিস্ফোরক তৈরির নির্দেশিকাসংবলিত পুস্তিকা, নব্য জঙ্গি সংগঠনের কর্মপদ্ধতি (খসড়া), উগ্রবাদী বই ‘নেদায়ে তাওহীদের’ চার কপি এবং জিহাদি উগ্রবাদের ভিডিওসংবলিত একটি ট্যাব জব্দ করা হয়।



সাতদিনের সেরা