kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুলতানা কামালের বিরুদ্ধে রিজভীর বিষোদগারের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৯:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুলতানা কামালের বিরুদ্ধে রিজভীর বিষোদগারের প্রতিবাদ

মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের বিরুদ্ধে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর বিষোদগারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন মানবাধিকার সংগঠক, শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা এ প্রতিবাদ জানান।

গত ২ অক্টোবর ইন্ডিয়া টুডেকে সাক্ষাৎকার দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এবং বিশিষ্ট নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার আক্রমণাত্মক, অসংবেদনশীল, অশোভনীয় ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় সুলতানা কামালের বক্তব্যের বিষোদগার করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

বিজ্ঞাপন

সেই বিষোদাগারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠক, শিক্ষক, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা।

বিবৃতিদাতারা হলেন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, হুমায়ূন কবীর, শামসুল হুদা, অধ্যাপক মিসবাহ কামাল, অধ্যাপক সাদিকা হালিম, সঞ্জীব দ্রং, রবীন্দ্র সরেন, পল্লব চাকমা, সানায়া আনসারী, অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, কাজল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান বাদল, মোতাহার হোসেন আকন্দ, খুশি কবীর, জিনাত আরা হক, বেগম রোকেয়া, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, অধ্যাপক ড. এস এম মাসুম বিল্লাহ, তাপস কুমার দাস, অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল, ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল প্রমুখ।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে সুলতানা কামালের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক জন হামফ্রে ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রিজভীর এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী এবং ব্যক্তির মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সুলতানা কামাল সাধারণ জনগণের অধিকারের পক্ষে আজীবন কাজ করেছেন। তাকে আওয়ামী অধিকার কর্মী বলে অভিযোগ করা অনভিপ্রেত। এর মাধ্যমে মানবাধিকার আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিএনপির দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। পাশাপাশি উনাকে ছোট করবার হীন প্রয়াস বলে মনে হয়। শুধু তা-ই নয়, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এবং মানবাধিকারকর্মী শাহরিয়ার কবিরের মতো বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষকের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্যও অশোভনীয়, অগ্রহণযোগ্য ও চরম নিন্দনীয়।

সুলতানা কামাল সাক্ষাৎকারে কিছু সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য উদ্ঘাটন করেছেন। এ নিয়ে রিজভী যেভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, এর মধ্য দিয়ে তিনি ও তার দলের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। বিএনপি নেতার বক্তব্য প্রকারান্তরে মানবাধিকার আন্দোলনকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুলতানা কামালের প্রতি এরূপ অন্যায় অগ্রহণযোগ্য এবং রিজভীর অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। আশা করছি, আগামীতে তিনি এবং তার দল মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যদানে বিরত থাকবেন।



সাতদিনের সেরা