kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বাংলাদেশের ভূমিকা যথেষ্ট দুর্বল’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৯:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বাংলাদেশের ভূমিকা যথেষ্ট দুর্বল’

পার্টিসিপেটরি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) আয়োজিত কর্মশালা। ছবি- কালের কণ্ঠ।

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও অভিবাসন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ, কিন্তু জলবায়ু সমঝোতা আলোচনায় বাংলাদেশের ভূমিকা যথেষ্ট দুর্বল।  

আজ বৃহস্পতিবার মহাখালীর ব্র‍্যাক সেন্টারে, আসন্ন কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলন ও তার পরবর্তী বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমকে যুক্ত করতে দক্ষতা ও কৌশল বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টিসিপেটরি রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) আয়োজিত কর্মশালায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সিপি আরডির প্রধান নির্বাহী শামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, ব্র‍্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ব্র‍্যাকের জলবায়ু ব্রিজ ফান্ডের প্রধান ড. গোলাম রাব্বানী, সুইডেনভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ডায়াকোনিয়ার কান্ট্রি ডিরেক্টর খোদেজা সুলতানা, ওয়াটার এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিনা জাহান প্রমুখ।

এ সময় ব্যারিস্টার শামীম বলেন, ‘আমাদের জলবায়ু নেগোশিয়েটরের সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকজন, আমরা এত বছরেও একটি দক্ষ নেগোশিয়েটর গ্রুপ দাঁড় করাতে পারিনি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে সরকার এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে। ’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই বদ্বীপ টিকবে না। আর ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়লে দেশের ২৫ শতাংশ তলিয়ে যাবে। বিশ্বকে দেখাতে হবে আমরা কতটুকু ঝুঁকিতে রয়েছি। কপ সম্মেলন সামনে রেখে কূটনীতিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রস্তুত করতে হবে। দেশের পক্ষে তারা জলবায়ু সম্মেলনে উপযুক্ত দর-কষাকষি করবে। ’

তিনি বলেন, ‘কপ সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ হয় নামে মাত্র। কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দর-কষাকষি সুষম হয় না। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে আমরা যতটা ক্ষতিগ্রস্ত, ততটা ক্ষতিপূরণ আমরা আদায় করতে পারি না। ’

উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্য তুলে ধরে মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে বৈশ্বিক সমঝোতা আলোচনা বরবরই একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে এই সমঝোতা আলোচনায়ও নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক নাগরিক সমাজ ও পরিবেশ সচেতন মানুষের চাপ এবং বিভিন্ন গবেষণা ফলাফলের ভিত্তিতে কপ-২৬ রাষ্ট্রসমূহকে তাদের কার্বন উদগিরণ হ্রাসকরণের লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়াতে বলে। এটি এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সবচেয়ে কার্যকর পন্থাটি হচ্ছে কার্বন (গ্রিনহাউস গ্যাস) উদগিরণ হ্রাস করা।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র এবং অঞ্চলসমূহের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদানের একটি আনুষ্ঠানিক মেকানিজম প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবারের সম্মেলনে। এ ছাড়া ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় অভিযোজন স্বল্পতার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি কমাতে জলবায়ু অর্থায়নের নিম্নপ্রবাহকে বৃদ্ধিকরণেরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যাবতীয় কারণে বাংলাদেশের মতো অতিমাত্রায় বিপদাপন্ন রাষ্ট্রসমূহের জন্য কপ-২৭ অনেক বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে।  আমরা যদি সুযোগগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে চাই এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষয়ক্ষতিগুলো তুলে ধরতে চাই তাহলে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ’



সাতদিনের সেরা