kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাঁচতে হলে বন্য প্রাণীদের প্রতি যত্নবান হতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁচতে হলে বন্য প্রাণীদের প্রতি যত্নবান হতে হবে

'প্রাণীবান্ধব সমাজ বিনির্মাণে আগামী প্রজন্ম শীর্ষক' আলোচনাসভা। ছবি- কালের কণ্ঠ।

পরিবেশের সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার জন্য প্রাণীদের রক্ষা করতে হবে। আর তার জন্য গড়তে হবে প্রাণিবান্ধব সমাজ। বিশ্ব প্রাণী দিবসকে কেন্দ্র করে প্রভা অরোরার আয়োজিত ‘প্রাণিবান্ধব সমাজ বিনির্মাণে আগামী প্রজন্ম’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন বক্তারা।

আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, প্রাণীদের প্রতি মর্যাদা বাড়ানো এবং তাদের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুরো বিশ্বে সব প্রাণীর জন্য বাসযোগ্য ও জীবনধারণে সহায়ক অবস্থান তৈরি করতে হবে। জলবায়ু ও সার্বিক পরিবেশ প্রেক্ষিতে প্রাণী রক্ষায় বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য প্রফেসর ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের সমাজে বেশির ভাগ মানুষ প্রাণীদের রক্ষণাবেক্ষণ বা তাদের বিষয়ে কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনাই করে না। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভালো থাকার পেছনে প্রাণীর গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। ’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পৃথিবীতে যত রোগ-জীবাণু রয়েছে তার ৬০ ভাগেরও বেশি আসে প্রাণী থেকে। নতুন নতুন রোগের যত উদ্ভাবন হচ্ছে তার ৮০ শতাংশ আসছে প্রাণী থেকে, বিশেষ করে বণ্য প্রাণী থেকে। এ জন্য কি দায়ী তারা না আমরা? আমরা একটি উন্নয়নের মহাসড়কে আছি। কিন্তু এই উন্নয়নের মহাসড়কে এই প্রকৃতি ও প্রাণীর প্রতি আমরা কতটুকু যত্নবান?’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশে ভয়ংকর ভারসম্যহীন হয়ে যাচ্ছে। এই ভারসাম্যহীনতার সিংহ ভাগই হচ্ছে প্রাণিজগৎকে কেন্দ্র করে। এই সংকট তৈরি করার মূলই আমরা। প্রাণীর ওপর অসচেতনতাই আমাদেরকে এই সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ’

আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজাংকট ফ্যাকাল্টি ড. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নের যেসব কর্মকাণ্ড চলছে তা খুবই ভয়ানক। আমরা গাছপালা-বনায়ন সব কেটে উজাড় করছি। ’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো জমি থাকছে না। সব ঘর-বাড়িতে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে প্রাণী যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃতি। যার প্রভাব এসে পড়ছে মানুষের ওপর। মানুষ-প্রকৃতি ও প্রাণীকে কেন্দ্র করে একটি প্রাণিবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা প্রয়োজন। ’ 

আলোচনাসভা শেষে প্রভা অরোরার উদ্যোগে সমাজকে প্রাণিবান্ধব কর্মে উদ্বুদ্ধ করতে প্রাণিবান্ধব জাতীয় প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়। এ প্ল্যাটফর্মের মধ্য দিয়ে প্রাণিবান্ধব সমাজ বিনির্মাণে সমাজের উদ্ভাবনীমূলক ও প্রযুক্তি সমন্বিত উদ্যোগসমূহকে উৎসাহিত করা হবে।

পাশাপাশি দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত উদ্যোক্তাকে দেওয়া হবে আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় গাইডেন্স। যার মধ্য দিয়ে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে নিজের চিন্তাকে তুলে ধরতে পারবেন।



সাতদিনের সেরা