kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে তোয়াব খানকে শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০২২ ১৫:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাতীয় পতাকায় মুড়িয়ে তোয়াব খানকে শ্রদ্ধা

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খান। ছবি : সংগৃহীত

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সহকর্মী, সাংবাদিক, রাজনীতিবীদ, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ জড়ো হয়েছিলেন শহীদ মিনারে। বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে সবাই ছুটে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিককে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে।

তোয়াব খানের সর্বশেষ কর্মস্থল তেজগাঁওয়ের দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় বেলা সাড়ে এগারোটা থেকে বারোটা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হন তোয়াব খান।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহবাহী কফিনে ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলামের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়।

শহীদ মিনারে বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রতি রাষ্ট্রপতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানান তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শ্রদ্ধান জানান তাঁর সহকারী সামরিক সচিব জিএম রাজিব আহমেদ। আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান। শহীদ মিনারে তোয়াব খানের পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও তাঁর সহযোদ্ধারাও উপস্থিত ছিলেন।  

এ সময় পরিবারের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন সাংবাদিক আবেদ খান। তিনি বলেন, সাংবাদিক হিসেবে তোয়াব খান যে পথ তৈরি করে গেছেন তা পরবর্তী প্রজন্মের পথ। পরবর্তী প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে না যায় সে জন্য তোয়াব খানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে হবে। আমরা তাঁর উত্তরাধিকারীরা মনে করি, তোয়াব খানকে শুধু একটি দিনের জন্য শ্রদ্ধাজ্ঞাপন নয়; তাঁর কর্মের ভেতর দিয়ে তাঁকে আবিষ্কার ও শ্রদ্ধা করতে হবে। সমগ্র জাতির কাছে সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা নিবেদনের মাধ্যমে তাঁকে ধারণ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য এই সাংবাদিকের প্রতি আরো শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, কুমিল্লার কাগজ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নেতৃবৃন্দ।  

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে তোয়াব খানের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে দুপুর একটায় অনুষ্ঠিত হয় তাঁর দ্বিতীয় জানাজা। জানাজা শুরুর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও ছোট ভাই ওবায়দুল কবীর খান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় ফরিদা ইয়াসমিন জানান, তোয়াব খানের চলে যাওয়া মানে সাংবাদিকতার একটি ইতিহাসের অধ্যায় শেষ হওয়া। তোয়াব খানের মতো সাংবাদিককে নিয়ে কথা বলার মতো উপযুক্ত মানুষ আর নেই। তবু ৮ অক্টোবর সকাল এগারোটায় একটি শোকসভার আয়োজন করা হবে, সেখানে তাঁর সহকর্মীরা স্মৃতিচারণ করবেন। ছোট ভাই ওবায়দুল কবীর খান বড় ভাইয়ের জন্য সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করেন।  

প্রেসক্লাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও দৈনিক কালের কণ্ঠ পরিবারের পক্ষে আলী হাবিব ও অন্যান্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া তোয়াব খানের দীর্ঘদিনের কর্মস্থল দৈনিক জনকন্ঠ, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ড ও সম্পাদক মতিউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম আলো পরিবার শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানিয়েছে দৈনিক সমকাল পরিবার। শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট, ঢাকা সাব এডিটর কাউন্সিলসহ অন্যান্য সংগঠন।  
 
দুপুর ১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁর গুলশানের বাসায়। গুলশান আজাদ মসজিদে আসরের নামাজের পর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শরিফুজ্জামান পিন্টু।  

প্রেসক্লাবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, জনাব তোয়াব খান বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি সাংবাদিক। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর অসামান্য অবদান ছিল। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। দৈনিক পাকিস্তান যখন নাম পরিবর্তন করে দৈনিক বাংলা হলো সেটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন জনাব তোয়াব খান। আবারো প্রকাশিত দৈনিক বাংলার সম্পাদক থাকা অবস্থায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশের বহু প্রথিতযশা সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে। তাঁর লেখনী আমাদের দেশ ও জাতিকে উপকৃত করেছে। তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে একজন পথিকৃত। তাঁর মৃত্যু আমাদের সাংবাদিকতা জগতের জন্য শুধু নয়, পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।



সাতদিনের সেরা