kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে মানসম্মত আবাসন করা প্রয়োজন : আইপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৪৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে মানসম্মত আবাসন করা প্রয়োজন : আইপিডি

ছবি- কালের কণ্ঠ।

ঢাকা মহানগরীতে মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত না করতে বিভিন্ন আয়ের লোকদের আবাসন চাহিদার প্রকৃত বিশ্লেষণের পাশাপাশি আবাসনের অনুষংগ হিসেবে বিদ্যালয়, হাসপাতাল, কমিউনিটিসেন্টারসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধাদি, অবকাঠামো, খেলার মাঠ-পার্কসহ বিনোদন সুবিধা, মৌলিক পরিসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আবাসনের চাহিদার ভিন্নতাকে মাথায় নিয়ে বিবিধ ধরনের ও বিভিন্ন আকারের আবাসিক ইউনিট তৈরি করা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা ও আবাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে উপরোক্ত মতামতগুলো উঠে এসেছে আজ শুক্রবার অনলাইনে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত আইপিডি পরিকল্পনা সংলাপে। যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল, 'ঢাকা মহানগরীতে সকলের জন্য মানসম্মত আবাসনঃ প্রেক্ষিত ও করণীয়।

বিজ্ঞাপন

'

পরিকল্পনা সংলাপে আরো উঠে আসে- ঢাকা মহানগরীর আবাসনের সংকট মূলত নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য অত্যন্ত তীব্র হওয়াতে আবাসন পরিকল্পনায় স্বল্প আয়ের আবাসনকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া উচিত। ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা ও কাঠামোগত পরিকল্পনায় প্রস্তাবিত কৌশল ও প্রণোদনা স্বল্প আয়ের আবাসনের জোগানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারী-বেসরকারী-ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত আবাসন উদ্যোগকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিকাঠামো ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।  
 
পরিকল্পনা সংলাপের মূল প্রবন্ধে আইপিডির পক্ষ  থেকে ইনস্টিটিউটের  নির্বাহী পরিচালক  এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক পরিকল্পনাবিদ ড.আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকার আবাসনের উপর ক্রমাগত চাপ ফেলেছে, যা একই সাথে ঢাকামুখী অভিগমন এর ও অন্যতম কারণ। '

তিনি আরো বলেন, 'আমাদের শিল্পায়ন-অর্থনীতি-বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সাথে সাথে আবাসন পরিকল্পনার সংযোগ করতে আমরা পারিনি। ইতিপূর্বে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও ভৌত পরিকল্পনার সাথে জনঘনত্ব ও নাগরিক সুবিধাদির সংস্থানের কোন সংযোগ রাখা হয়নি। বিভিন্ন আইন-বিধি-পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে অনুসৃত পরিকল্পনার স্ট্যান্ডার্ড বা মান আধুনিক নগর গড়বার সহায়ক নয়। ফলে সার্বিকভাবে সকলের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন যেমন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তেমনি সার্বিকভাবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ চরম সংকটে পড়েছে। '

তিনি বলেন, "এই পরিস্থিতি উত্তরণে বিশ্ব বসতি দিবস- ২০২২ এর প্রতিপাদ্য 'বৈষম্য হ্রাসের অংগীকার করি, সবার জন্য টেকসই নগর গড়ি' লক্ষ্যকে সামনে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের লোকদের জন্য ভূমির সংস্থান করা ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে আবাসন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বেসরকারি খাতে নিম্ন আয়ের লোকদের আবাসন তৈরিতে নীতি প্রণোদনা দেয়ার জন্য ঢাকা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার দেয়া প্রস্তাবনা স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য আবাসন জোগান বৃদ্ধি করতে পারে। '

ড.আদিল বলেন, 'পরিকল্পনার স্ট্যান্ডার্ডকে বাসযোগ্য শহর গড়বার উপযোগী করে নেইবারহুড অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট করবার মাধ্যমে সুন্দর আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার জন্য কার্যকর কৌশল তৈরি করা প্রয়োজন। ঢাকায় প্লট ভিত্তিক আবাসন প্রকল্পকে বন্ধ করে ফ্ল্যাট ও ব্লকভিত্তিক আবাসিক প্রকল্প তৈরি করবার জন্য বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনার প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধাদি নিশ্চিত করে ক্রমান্বয়ে ঢাকায় মানসম্পন্ন আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক। '

পরিকল্পনা সংলাপের সূচনা বক্তব্যে পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, "আবাসনকে শুধুমাত্র ‘থাকবার জায়গা’ হিসেবে বিবেচনা না করে ব্যাপক অর্থে আবাসন এর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবার জন্য পরিকল্পনা কৌশল নির্ধারণ করা উচিত। ফলে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা অনুযায়ী কত উচ্চতার ভবন পাওয়া যাবে, সেই সংকীর্ণ আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানসম্মত আবাসন তৈরির প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল নির্ধারণে আলোচনা ব্যাপৃত হওয়া উচিত। "
 
পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, "ঢাকার আবাসন চাহিদা ও জোগানের আলোচনা হওয়া উচিত মূলত নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে কেন্দ্র করে। অথচ ড্যাপ নিয়ে ভবনের উচ্চতা কিংবা ‘এফএআর (ভূমির সাপেক্ষে ভবনের মোট মেঝের ক্ষেত্রফলের অনুপাত)’ সংক্রান্ত আলোচনার মূল কেন্দ্রে আছে উচ্চবিত্ত কিংবা উচ্চ মধ্যবিত্তরা। '

তিনি আরো বলেন, 'জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ অনেক সরকারী আবাসন প্রকল্পে খেলার মাঠ বা নাগরিক সুবিধাদির জন্য বরাদ্দকৃত জমিকে অবৈধভাবে প্লটে রূপান্তরিত করা হয়েছে। '
 
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) এর প্রকল্প পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম  রাজউক বলেন, 'বৈশ্বিক শহরগুলোর তুলনায় ড্যাপে এফএআর মান তুলনামূলক বেশি দেয়া হয়েছে। ''

তিনি বলেন, 'এক্ষেত্রে মালয়েশিয়া, ভারত, পাকিস্তানের শহরগুলোর তুলনা তুলে ধরেন তিনি। মালয়েশিয়াতে প্লট কেন্দ্রিক উন্নয়নকে নিরুৎসাহিত করে ব্লক ডেভেলপমেন্ট করে একদিকে যেমন উন্মুক্ত স্থান, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, পাশাপাশি নিম্ন আয়ের লোকদের জন্য আবাসন ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। '

তিনি আরো বলেন, 'এবারের ড্যাপে এ ধরনের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। পূর্বের রুরাল সেটেলমেন্ট জোনসহ অনেক এলাকায় আগের চেয়ে বেশি উচ্চতার ভবন করবার প্রস্তাবনাও আছে ড্যাপে। তিনি আরো বলেন, অসত্য তথ্য দিয়ে যারা ড্যাপকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে, সামগ্রিক জনস্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়িক স্বার্থেই কথা বলছেন তারা। মানসম্মত আবাসন ও বাসযোগ্য নগর গড়তে যে কোন ভাল প্রস্তাবনা ড্যাপে আত্তীকরণ করবার সুযোগ আছে বলে মন্তব্য করেন রাজউকের এই পরিকল্পনাবিদ। '
 
পরিকল্পনাবিদ ড. চৌধুরী মো. জাবের  বলেন, 'ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে ৪০ শতাংশ লোক ঢাকা থেকে বের হয়ে যাবে বলে যে ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে তার সাথে আবাসন ও পরিকল্পনাগত বাস্তবতার কোন সংযোগ নেই। '

ঢাকা শহরের জন্য মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর যথাযথ সংস্কার ও পূনর্গঠন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ।



সাতদিনের সেরা