kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

৩১ কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে চার বছর

মিজানুর রহমান, বরগুনা    

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০৩:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩১ কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে চার বছর

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনটি চার বছর আগে উদ্বোধন করা হলেও এখনো চিকিৎসাসেবা পায়নি রোগীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করা হয় চার বছর আগে। আর হস্তান্তর হয় প্রায় দেড় বছর হলো। ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা পায়নি কোনো রোগী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আসবাব ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ওই ভবনে চিকিৎসাসেবা চালু করা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এ কারণে পুরনো ভবনে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বরগুনার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর ২০১৩ সালে নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আ. খালেক এন্টারপ্রাইজকে এই নতুন ভবন নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেয় গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৮ সালে নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। সে সময়কার জনবল দিয়েই ২০১০ সালে হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর এখানে ছয়তলা একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে নতুন ভবন উদ্বোধন করার পর বর্তমানে সেখানে করোনা ইউনিট করা হয়েছে। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতাল ভবনটিতে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করার জন্য ৫৫ জন চিকিৎসক, ১০১ জন নার্সসহ মোট ২৩৩ জনের জনবল দরকার। কিন্তু ২৩৩ জনবলের মধ্যে ১০৩ জনের পদ শূন্য বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, এই হাসপাতালে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ রোগী ভর্তি থাকে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে গড়ে সাড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। এরপর প্রশাসনিক কাজ, ময়নাতদন্ত, ধর্ষণের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন কাজকর্ম করতে হয় চিকিৎসকদের। ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। পর্যাপ্ত শয্যা দিতে না পারায় মেঝেতে শুয়েও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।    

বরগুনা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা গৌরিচন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামের আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘রোগীদের দীর্ঘ সারি থাকে। সে অনুসারে চিকিৎসক নেই। হাসপাতালে আরো বেশি চিকিৎসক থাকলে আমাদের সেবা নিতে সুবিধা হতো। ’

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাব উদ্দীন বলেন, ‘গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর গত বছরের জুন মাসে আমাদের কাছে নতুন ভবন হস্তান্তর করে। ভবনে এখনো প্রয়োজনীয় আসবাব ও চিকিৎসা সরঞ্জাম তোলা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ভবনটি এখনই চালু করা যাচ্ছে না। তবে আমরা আসবাব ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। আসবাব-যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল পেলেই এই ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হবে। ’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের নতুন ভবন চালুর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এ বিষয়ে আমরা প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছি। ’



সাতদিনের সেরা