kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বৈষম্য নিরসনে দরিদ্র মানুষের ওপর পরোক্ষ কর কমানোর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৯:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈষম্য নিরসনে দরিদ্র মানুষের ওপর পরোক্ষ কর কমানোর আহ্বান

স্যাপি, জনউদ্যোগ ও বিএনপিএস আয়োজিত সভা। ছবি- কালের কণ্ঠ।

বৈদেশিক ঋণ, কর ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব বিচার বিষয়ক আলোচনাসভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম বৈষম্য বিরাজ করছে। এই বৈষম্য নিরসনে দরিদ্র মানুষের উপর পরোক্ষ কর কমাতে হবে। একই সঙ্গে কাঠামোগত উন্নয়নের পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) মিলনায়তনে সাউথ এশিয়ান অ্যালান্স ফর প্রভার্টি ইরাডিকেশন (স্যাপি), জনউদ্যোগ ও বিএনপিএস আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোশিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রশিদ ই মাহবুব।

বিজ্ঞাপন

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ। সভা পরিচালনা করেন বিএনপিএসের নির্বাহী পরিচালক ও স্যাপির ফাউন্ডার মেম্বার রোকেয়া কবীর।

সভায় বক্তব্য রাখেন স্যাপি সচিবালয় নেপাল খেকে আগত অ্যাডভোকেসি ও মনিটরিং অফিসার রেশমা সায়কা, গবেষক মনেয়ার মোস্তফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক ইশতিয়াক রেজা, দুস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জয়েন্ট ডিরেক্টর নুরুননবী শান্ত, বারসিকের ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ নাজনীন পাপ্পু, শ্রমিকনেতা রুহুল আমীন, শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী, আইইডির জ্যোতি চট্টোপ্যাধ্যায়, ওয়াইডাব্লিউসির পূরবী তালুকদার, শ্রমিক নেতা খালেকুজ্জামান লিপন, আদিবাসী নেতা অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু ও হবেণ সিংহ, কৃষক নেতা মানবেন্দ্র দেব প্রমুখ।

সভায় অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, 'চরম বৈষম্য ও আর্থিক অবিচার দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর নাগরিকদের পঙ্গু করে দিচ্ছে। এই অঞ্চলের প্রচুর ঋণ পুঞ্জিভূত হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। যা সম্পূর্ণরূপে আর্থিক সংকটে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে। '

তিনি বলেন, 'দ্রুতগতিতে কোটিপতির সংখ্যা এবং জিডিপি বৃদ্ধি পাওয়া সত্বেও নেপাল ব্যতীত দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে কর সংগ্রহের হার অসম্ভবভাবে কম। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কর যে পরিমাণে সংগ্রহ করা হচ্ছে, তার থেকে অনেক বেশি ব্যয় করা হচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো খাতকে কম গুরুত্ব দিয়ে অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেশি করা হচ্ছে। '

সভায় রোকেয়া কবীর বলেন, 'বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ ইনফরমাল সেক্টরে কাজের সাথে যুক্ত এবং ১৫ শতাংশ জনগণের গড় মাথাপিছু আয় ৫০০ টাকার কম। দেশে নতুন দরিদ্র জনগণের সংখ্যা এক কোটি ৮৪ লাখ। করোনাকালে শহুরে কর্মজীবীদের আয় ৬০ ভাগ কমেছে। '

তিনি আরো বলেন, 'করোনা ভাইরাসের প্রভাব ৯৫ ভাগ মানুষের গড় আয় হ্রাস পেয়েছে। অনেক মানুষের চাকরি আছে কিন্তু বেতন নেই। অপরদিকে ৭২ ভাগ দিনমজুর তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষক সম্প্রদায় ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রা টিকিয়ে রাখতে সার্বিক বিবেচনায় তাদের জীবিকার নিরাপত্তায় বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। '

সভায় বক্তারা ধনি ও দরিদ্রদের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, মজুরী বৈষম্য দূর, নারীর প্রতি বৈষম্য কমানো, দেশীয় কর রাজস্ব সচল এবং ধনি ব্যক্তি ও কম্পানির প্রতি অন্যায্য কর ছাড় বন্ধ, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিনিয়োগ করার দাবি জানান।



সাতদিনের সেরা