kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মিরপুরের অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ডিএনসিসি মেয়রের সংহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিরপুরের অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ডিএনসিসি মেয়রের সংহতি

অনশনরত শিক্ষার্থীকে পানি পান করাচ্ছেন ডিএনসিসি মেয়র। ছবি- কালের কণ্ঠ।

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের প্যারিস রোড সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে খেলার মাঠের দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি জানিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম মিরপুরে প্যারিস রোড সংলগ্ন মাঠে উপস্থিত হয়ে দেখেন অসংখ্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণ খেলার মাঠের দাবিতে অনশন করছে এবং ‘মাঠ চাই, মাঠ চাই’ বলে স্লোগান দিচ্ছে।  

এ সময় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম অনশনকারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দাবির সাথে সংহতি জানান। মেয়রের আশ্বাসে অনশনকারীরা অনশন ভাঙতে রাজি হয়।

বিজ্ঞাপন

অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।  

পুরো মাঠের চারপাশ পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এই এলাকায় ৬০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে যেমন প্রয়োজন শারীরিক সুস্থতা, তেমনি প্রয়োজন মানসিক সুস্থতা। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এই অঞ্চলে খেলার মাঠ নেই। চারপাশে শুধু ভবন নির্মাণ হচ্ছে। ’

সাফ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২২-এ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুনাম অর্জন করেছে উল্লেখ করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমেই বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করা যায়। ক্রিকেট ও ফুটবলের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিত হয়েছে। সম্প্রতি ভলিবলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ খেলাধুলায় সফলতা অর্জন করে চলেছে। ছেলে-মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ’

এ সময় মেয়র বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় এই প্যারিস রোড মাঠে খেলেছেন। এই এলাকার অনেক বয়স্ক মানুষ জানিয়েছেন তারা শৈশবে এই মাঠে খেলেছেন। ড্যাপের নকশায় এটিকে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে দেখানো আছে। অথচ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এই মাঠকে প্লট আকারে বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। জনগণের স্বার্থে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই খেলার মাঠ পুনরুদ্ধার করব। ’

মেয়র বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরেই ড্যাপের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। নকশায় এটি একটি উন্মুক্ত স্থান। যেখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। ড্যাপের নকশা অনুযায়ী এই উন্মুক্ত স্থানটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে খেলার মাঠ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ করছি। বরাদ্দ দেওয়া হলে আমরা একটি আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করব। মানুষের হাঁটার জন্য মাঠের চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করব। ’

এ সময় মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ডিএনসিসির বর্জ্য বিভাগকে তাৎক্ষণিক মাঠের বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন। মেয়রের উপস্থিতিতে মাঠের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু হয়।

বর্জ্য অপসারণ হলে ডিএনসিসি মেয়র মাঠে প্রবেশ করেন এবং উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে ফুটবল খেলে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহ. আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন রশীদ জনি প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা