kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন বাসা পাল্টাতেন রাজাকার খলিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৮:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন বাসা পাল্টাতেন রাজাকার খলিল

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি খলিলুর রহমান (৬৮) ২০১৫ সালে মামলার তদন্ত শুরুর পর থেকে পলাতক ছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে খলিল ব্যবহার করতেন না মোবাইল ফোন। নিয়মিত পরিবর্তন করতেন বাসা, এমনকি থাকতেনও একা। মাঝে মাঝে গোপনে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার রায় ঘোষণার পর সাভারে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার সাভার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১৪।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি নেত্রকোণার খলিলুর রহমানসহ তার ভাই আজিজুর রহমান, একই এলাকার আশক আলী, জানিরগাঁও ইউনিয়নের শাহনেওয়াজ এবং একই এলাকার রমজান আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পাঁচ আসামির মধ্যে খলিলুর রহমান ছাড়া সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারকাজ চলাকালে চার আসামি বিভিন্ন সময় মারা যান।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চারটিতে মৃত্যুদণ্ড ও একটিতে দশ বছরের সাজা ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে র‍্যাব দণ্ডিত পলাতক আসামি খলিলুরকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। যার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে খলিলুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত কাজ শুরু হলে ২০১৫ সাল থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ২০১৭ সালে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গৃহীত হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। রাজধানীর দক্ষিণখান, তুরাগ ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন।

আত্মগোপনে থাকাকালীন গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিয়মিত বাসা পরিবর্তন ও একা অবস্থান করতেন। যোগাযোগের জন্য মোবাইলফোনও ব্যবহার করতেন না। পরিবারের সদস্যরা গোপনে তার সঙ্গে দেখা করতেন। ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য তারা নিয়মিত অর্থ দিতেন।

গ্রেপ্তার খলিলুর ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন উল্লেখ করে র‍্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, খলিলুরের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুরের নোয়াগাঁও এলাকায়। যুদ্ধের সময় তিনি রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। পরে চন্ডিগড় ইউনিয়নের আল বদর বাহিনীতে কমান্ডার হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করা, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যায় জড়িত ছিলেন।   

তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, একজনকে ধর্ষণের চেষ্টা, অপহূত ৪ জনের মধ্যে দুজনকে ক্যাম্পে নির্যাতন, ১৪-১৫টি বাড়িতে লুটপাট ও ৭টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র‍্যাব।



সাতদিনের সেরা