kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মিরপুরে 'মাঠ চাই' দাবিতে এলাকাবাসির মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১৬:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিরপুরে 'মাঠ চাই' দাবিতে এলাকাবাসির মানববন্ধন

মিরপুরে মাঠ পুনরুদ্ধারে মানববন্ধন। ছবি- কালের কণ্ঠ।

মিরপুর ১১ নম্বরের প্যারিস রোড সংলগ্ন খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারে জড়ো হয়েছেন নানা বয়স ও শ্রেণি পেশার মানুষ। আজ সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা একে একে এই মানববন্ধনে যোগ দিতে দেখা যায়।

ব্যানার, পোস্টার ও শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড। আজ দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ করেন মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহবায়ক এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক।

বিজ্ঞাপন

কাউন্সিলরের দাবি, মানববন্ধনে প্রায় ৫ হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। এতে ৯৭টি স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়াও অংশগ্রহণ করেছেন ১৬টি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ২১টি ক্রীড়াচক্রের সদস্যরা।

জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, '১৯৬৩ সালে এই স্থানটিকে খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন গণপূর্তমন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবাসিক প্লট হিসেবে বরাদ্দ দেন। চিহ্নিত বিএনপি এবং জামায়েত ইসলামের ৩২ জনকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। '

মাঠের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে কাউন্সিলর বলেন, '৩ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে প্রায় ৩ লাখ লোকের বসবাস। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য একটিও মাঠ নেই। এছাড়াও এখানে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে জরুরি সেবা ও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে একটি হেলিকপ্টার নামার জায়গা নেই। সব দিক বিবেচনায় এই মাঠ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ও গণপূর্তমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপ আশা করছি। '

যুব মহিলা লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফুন্নেছা পারুল বলেন, 'অত্র এলাকায় খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভিডিও গেমস এবং মোবাইলের আসক্তি বাড়ায় শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে হাঁটাচলার সুযোগ হারাচ্ছে বয়োজ্যেষ্ঠরা। '

৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আলফাস আহমেদ জানান, ছোটবেলা থেকে দেখেছি এ জায়গা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। মাঠ হিসেবে চিহ্নিত জায়গায় এর আগে বস্তি উঠেছে, এখন ভবন নির্মাণের পায়তারা চলছে। এই ওয়ার্ডে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের মানসিক বিকাশের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। এতে তারা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাঠ না থাকায় কেউ কেউ ব্যস্ততম সড়কের উপর ক্রিকেট খেলছে, যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

এই ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা রুবেল শেখ জানান, বর্তমানে মাঠটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এখানে সন্ধ্যা হলেই মাদক ও জুয়ার আড্ডা শুরু হয়। এতে এলাকাটির পরিবেশ দিনে দিনে নষ্ট হচ্ছে।

মর্নিং গ্লোরি স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাফি জানান, স্কুলে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, এখানে মাঠ থাকলেও খেলার ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়েই মাঝে মধ্যে রাস্তায় খেলতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। খেলার সুযোগ না থাকায় আমার বন্ধুরা অনেকেই মোবাইলে গেইম খেলে সময় পার করে।



সাতদিনের সেরা