kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

আজ বিশ্ব জন্মনিরোধ দিবস

জন্মনিয়ন্ত্রণে জরুরি বড়ি নেওয়ার হার বেড়েছে

সর্বোচ্চ ৩৩ ভাগ কমেছে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ

নিখিল ভদ্র   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ১২:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জন্মনিয়ন্ত্রণে জরুরি বড়ি নেওয়ার হার বেড়েছে

করোনা পরিস্থিতির ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। কারোনা সংক্রমণ শুরু হলে জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। দ্রুত কমতে থাকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সেবা গ্রহণের হার। সারা দেশে সেই প্রভাব এখনো চলছে।

বিজ্ঞাপন

গত পাঁচ বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণের সব সূচক নিম্নমুখী। এর মধ্যে স্থায়ী পদ্ধতি নেওয়ার হার সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ কমেছে। তবে এই সময়ে জরুরি বড়ি নেওয়ার হার দ্রুত বেড়েছে।

এমতাবস্থায় আজ ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব জন্মনিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ২০০৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। করোনাকাল এই দিবসটির গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই সময়ে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে এই সময় জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া দেশে প্রজননক্ষম দম্পতির প্রায় অর্ধেক এখনো আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন না। গত পাঁচ বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে অনিয়মিত হয়ে পড়ার হারও বাড়ছে।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে খাওয়ার বড়ি, কনডম, দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির ইনজেকশন, ইন্ট্রা–ইউটেরিন ডিভাইস (আইডি) বা কপার টি, ইমপ্ল্যান্ট, স্থায়ী পদ্ধতি ও জরুরি বড়ি উল্লেখযোগ্য। গত পাঁচ বছরে একমাত্র জরুরি বড়ি নেওয়ার হার ব্যাপক হারে বেড়েছে। অপরিকল্পিত যৌনমিলনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বড়ি খেতে হয়। সরকারিভাবে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে শুধু ঢাকায় জরুরি বড়ি দেওয়া শুরু হয়। সে সময় ১৫২টি বড়ি সরবরাহ করা হয়েছিল। ২০২১-২২ অর্থবছরে সারা দেশে জরুরি বড়ি সরবরাহ করা হয় পৌনে চার লাখের বেশি।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে অর্থাৎ গত পাঁচ বছরে খাওয়ার বড়ি নেওয়ার হার ৩৭ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে স্থায়ী পদ্ধতি নেওয়ার হার কমেছে ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া কপারটি প্রায় ২৯ শতাংশ, ইমপ্ল্যান্ট প্রায় ১৯ শতাংশ, ইনজেকশন ১৭ শতাংশ ও কনডম নেওয়ার হার ১৪ শতাংশ কমেছে। অবশ্য ইমপ্ল্যান্ট সেবা নেওয়ার হার ধারাবাহিকভাবে কমেনি; এর হারে ওঠা-নামা আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত বছরগুলোয় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু করোনা মহামারি শুরু হলে স্বাস্থ্যসেবা চলে যায় নাগালের বাইরে। করোনার প্রভাব কমে গেলেও সে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতা। সব মিলে থমকে গেছে এসংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের সেবা। দেশের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনুসন্ধান চালিয়ে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচারের অভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে দম্পতিদের সচেতন করা যাচ্ছে না। ঘরে ঘরে প্রচারের ফলে আশির দশকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জনবহুল এই দেশে যে সাফল্য এসেছিল, সরকারের মনোযোগের অভাবে সেটি ব্যাহত হচ্ছে। ভবিষ্যতের জনবিস্ফোরণ ঠেকাতে এখন থেকেই সচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যাডভান্স ফ্যামিলি প্লানিং নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন বেসরকারি সংস্থা ‘টিম এসোসিয়েটস’র টিম লিডার পুলক রাহা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্ধেকের বেশি নারী যৌনমিলন, জন্মনিয়ন্ত্রণ এমনকি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে না। এরপর কভিড-১৯ বাস্তবতায় সারা বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা, স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্ন এবং অপরিকল্পিত গর্ভধারণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। এ অবস্থায় ২০৩০ সাল নাগাদ জন্মনিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, মাতৃমৃত্যু হার কমানো ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে। আর সেবার মান উন্নয়নে চিকিৎসক, প্যারামেডিক, এফডাব্লিউভি (পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা) ও মাঠকর্মীদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বস্তবায়নে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের জন্মনিরোধ সেবা ও সরবরাহ কর্মসূচি (সিসিএসডিপি) ইউনিটের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির ক্ষেত্রে যেকোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। মোট প্রজনন হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিকে মা ও শিশুস্বাস্থ্য উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে সেবার মান বাড়ানো হয়েছে। ’ নির্ধারিত সময়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা